ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জ রাঁধাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে দুর্নীতি ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে !

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুর হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের ২২নং রাধাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহ সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই দুর্নীতি ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে নিজের ইচ্ছে মতই চালাচ্ছেন বিদ্যালয়।

Model Hospital

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রধান শিক্ষক এর অফিস কক্ষেই সংবিধানে যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি (ছবি) সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নির্দেশনা থাকলেও তার কক্ষে বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। জাতির পিতার সমান্তরালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা।

১ বছর ৩ মাস আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে বিদ্যালয়ে আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র। আর এটিই ঝুলছে বিদ্যালয়ের দেয়ালে। ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর রিফিল করার কথা থাকলেও নেয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। এতে করে যে কোন সময়ই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার নিম্ন মানের ডিভাইস ক্রয় করে। দীর্ঘদিন ধরে এই বায়োমেট্রিক হাজিরার ডিভাইস অচল হয়ে পড়ে আছে।

সরকার ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য দেশের ১৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বরাদ্দ দিয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। এ অর্থের মধ্যে প্রতিটি স্কুল ২ লাখ করে টাকা পায়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি৪) উপপরিচালক এইচ এম আবুল বাশার আগেই বলেছিলেন ‘ এ বরাদ্দের টাকা যেন কোনভাবে ভিন্নখাতে খরচ না হয় সেদিকে নজর রাখা হবে। পুরো অর্থ খরচের সব ভাউচার সংরক্ষণ রাখতে হবে।’প্রাথমিকভাবে  বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয়ের বিবরণী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক বরাবর পাঠাতে হবে। এই কাজটি করবেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহা ২ লক্ষ টাকা মধ্যে ২৬ হাজার টাকা ভ্যাট দিয়ে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা গ্রহন করেন। তিনি নামমাত্র কাজ করিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্রয় বাবদ ইচ্ছে মত দাম বসিয়ে ২ লক্ষ টাকার ভাউচার দেখিয়ে বাকী টাকা আত্মসাৎ করেন। এরপর তিনি ইঞ্জিনিয়ার নজরুলকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ২ লক্ষ্য টাকার বৈধ প্রত্যায়ন পত্র গ্রহন করেন। প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য কক্ষ সজ্জিতকরনেও রয়েছে অনিয়ম।

প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহা কে নিয়ে বিদ্যালয়ের আশেপাশে স্থানীয়দের মাঝেও রয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহা ও সহকারী শিক্ষক বিকাশ দাশ ছাড়া সবাই শিক্ষিকা।প্রধান শিক্ষকের পরিবার চাঁদপুর শহরের গনি স্কুলের পাশে চৌধুরী পাড়ায় থাকে। তবে তপন কুমার সাহা মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে রাত্রিযাপন করে। রাত্রিকালীন সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা আসা যাওয়ার চিত্র লক্ষ করা যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহা জানান জাতির পিতার সমান্তরালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি ব্যবহার অনিয়ম আমার জানা ছিল না। এটা আমার ভুল হয়েছে। অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ১ বছর ৩ মাস আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে এটা এখন দেখলাম।

এটা যে রিফিল করতে হয় এখন জানলাম। সরকার ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য যে ২ লক্ষ টাকা দিয়েছে এটা আমি না সব বিদ্যালয়েই অনিয়ম হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার নজরুল কে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে ২ লক্ষ টাকা বিলের বৈধ প্রত্যায়ন করতে হয়েছে। তিনি এও বলেন এটা আমি শুধু একা করি না সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকই ৪ হাজার টাকা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল কে দিয়ে প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছে। যা কিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারেও জানা আছে।

ট্যাগস :

বিশাল মিছিল নিয়ে রাজপথে বুয়েট শিক্ষার্থীরা

হাজীগঞ্জ রাঁধাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে দুর্নীতি ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে !

আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২২

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুর হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের ২২নং রাধাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহ সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই দুর্নীতি ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে নিজের ইচ্ছে মতই চালাচ্ছেন বিদ্যালয়।

Model Hospital

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রধান শিক্ষক এর অফিস কক্ষেই সংবিধানে যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি (ছবি) সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নির্দেশনা থাকলেও তার কক্ষে বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। জাতির পিতার সমান্তরালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা।

১ বছর ৩ মাস আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে বিদ্যালয়ে আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র। আর এটিই ঝুলছে বিদ্যালয়ের দেয়ালে। ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর রিফিল করার কথা থাকলেও নেয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। এতে করে যে কোন সময়ই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

সারাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার নিম্ন মানের ডিভাইস ক্রয় করে। দীর্ঘদিন ধরে এই বায়োমেট্রিক হাজিরার ডিভাইস অচল হয়ে পড়ে আছে।

সরকার ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য দেশের ১৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বরাদ্দ দিয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। এ অর্থের মধ্যে প্রতিটি স্কুল ২ লাখ করে টাকা পায়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি৪) উপপরিচালক এইচ এম আবুল বাশার আগেই বলেছিলেন ‘ এ বরাদ্দের টাকা যেন কোনভাবে ভিন্নখাতে খরচ না হয় সেদিকে নজর রাখা হবে। পুরো অর্থ খরচের সব ভাউচার সংরক্ষণ রাখতে হবে।’প্রাথমিকভাবে  বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয়ের বিবরণী প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক বরাবর পাঠাতে হবে। এই কাজটি করবেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহা ২ লক্ষ টাকা মধ্যে ২৬ হাজার টাকা ভ্যাট দিয়ে ১ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা গ্রহন করেন। তিনি নামমাত্র কাজ করিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্রয় বাবদ ইচ্ছে মত দাম বসিয়ে ২ লক্ষ টাকার ভাউচার দেখিয়ে বাকী টাকা আত্মসাৎ করেন। এরপর তিনি ইঞ্জিনিয়ার নজরুলকে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে ২ লক্ষ্য টাকার বৈধ প্রত্যায়ন পত্র গ্রহন করেন। প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য কক্ষ সজ্জিতকরনেও রয়েছে অনিয়ম।

প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহা কে নিয়ে বিদ্যালয়ের আশেপাশে স্থানীয়দের মাঝেও রয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহা ও সহকারী শিক্ষক বিকাশ দাশ ছাড়া সবাই শিক্ষিকা।প্রধান শিক্ষকের পরিবার চাঁদপুর শহরের গনি স্কুলের পাশে চৌধুরী পাড়ায় থাকে। তবে তপন কুমার সাহা মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে রাত্রিযাপন করে। রাত্রিকালীন সময় বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা আসা যাওয়ার চিত্র লক্ষ করা যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার সাহা জানান জাতির পিতার সমান্তরালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি ব্যবহার অনিয়ম আমার জানা ছিল না। এটা আমার ভুল হয়েছে। অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ১ বছর ৩ মাস আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে এটা এখন দেখলাম।

এটা যে রিফিল করতে হয় এখন জানলাম। সরকার ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য যে ২ লক্ষ টাকা দিয়েছে এটা আমি না সব বিদ্যালয়েই অনিয়ম হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার নজরুল কে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে ২ লক্ষ টাকা বিলের বৈধ প্রত্যায়ন করতে হয়েছে। তিনি এও বলেন এটা আমি শুধু একা করি না সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকই ৪ হাজার টাকা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল কে দিয়ে প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছে। যা কিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারেও জানা আছে।