ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফরিদগঞ্জে ৯৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর নিবাস’ নির্মানে ধীরগতি

এস এম ইকবাল: মজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নে মোট ৯৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি অর্থায়ানে বরাদ্দ করা স্বপ্নের বীর নিবাস নির্মানের কাজ চলছে ধীর গতিতে। ঠিকাদারগন যথাসময়ে বিল না পাওয়ার অজুহাতে বীর নিবাসের কাজ বন্ধ রেখেছে আবার কিছু কাজ চলছে ধীর গতিতে। এ নিয়ে উপকার ভোগী ও ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তুুষ বিরাজ করতে দেখা যায়। যথাসময়ে কাজের বিল না পাওয়ায় ঠিকাদারদের মধ্যেও এক ধরনরে অস্থিরতা বিরাজ করতে দেখা যায়।

Model Hospital

অপরদিকে এই কাজে ঠিকাদারের লস (ক্ষতি) হবে বলে বিভিন্ন ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে কৌশলে নানা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা হয়রানী হওয়ার ভয়ে মুক্তিযোদ্ধা কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ কিংবা অভিযোগ দেয়ার সাহস পাচ্ছে না। যারা টাকা দিতে চাচ্ছে না তাদের কাজ নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারা ভাবেই বীর নিবাস নির্মানের কাজ চলছে বলে নানা অভিযোগ উঠেছে। আবার কোন কোন বীর নিবাসের কিয়দাংশ কাজ করে বিল না পাওয়ার অজুহাতে ওই কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় দেয়ালে শেওলা পড়ে আছে।

বীর নিবাসের নির্মান কাজ শেষ না হওয়ায় ৯৭ জন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা নিরুপায় হয়ে এখন কেউ কেউ অন্যর ঘরে আবার কেউবা ছাপড়া ঘরে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। কবে নাগাদ বীর নিবাসের নির্মান কাজ শেষ করা হবে তা কেউই সুনির্র্দিষ্ট ভাবে বলতে পাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বীর নিবাস নির্মানের জন্য তালিকা প্রেরন করেন চাঁদপুর ৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাংসদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান। এই তালিকা যাছাই বাছাই শেষে ৯৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য স্বপ্নের বীর নিবাস নির্মান কল্পে উপজেলা পিআইও অফিসের মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি বীর নিবাসের জন্য সরকারি ভাবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারন করা হয়। ১৬ জন ঠিকাদার উক্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য ওয়ার্ক ওয়াডার হাতে পেয়ে গত অক্টোবর মাসে এর কাজ শুরু করেন। গত প্রায় ৩ মাসে ১টি বীর নিবাস নির্মান কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। অনেকেই বলছে ঠিক মতে কাজ করলে প্রায় এক মাসের মধ্যেই প্রতিটি বীর নিবাসের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব ।

এদিকে যে সব মুক্তিযোদ্ধা তাদের পূর্বেও টিনসেড ঘর ভেংগে ওই স্থানে বীর নিবাস নির্মানের জন্য ঠিকাদারকে জায়গা বুঝিয়ে দেয়। কাজটি চলমান অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা কেউ কেউ থাকছেন পাক ঘ্ের আবার কেউবা থাকছেন পাশে নির্মান করা ছাপড়া ঘরে। এক রকম বাধ্য হয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করতে দেখা যায়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক, বীর নিবাস পাওয়া কয়জন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের লোকজন জানান, কাজ শুরু থেকে গত কয়েকমাস যাবৎ অন্যের ঘরে থাকতে হচ্ছে। কেউবা থাকছেন পাশের ছাপড়া ঘরে।

অসচছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এম ইদ্রিস সিদ্দিকীর স্বাক্ষর ও স্বারক নং সম্বলিত গত ২৫ জানুয়ারী একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঠিকাদার বীর নিবাসের ছাদ ঢালাইয়ের পর নির্মান কাজ চলমান রাখলে শতকরা ২৫ শতাংশ বিল পাবে। এ ছাড়া ফিটিং ওয়ার্ক কমপ্লিট করে বীর নিবাস সম্পূর্ন বসবাসের উপযোগী করলে ২য় চলতি বিল ২৫ শতাংশ পাবে। বীর নিবাসের বাহিরের রং, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধার লোগো স্থাপন করে বীর নিবাস,মজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার লেখাসহ হস্তান্তর যোগ্য হলে ঠিকাদারগন তৃতীয় চলতি বিল ২৫ শতাংশ বিল পাবে। মন্ত্রনালয়ের দেয়া এই সর্ত পূরন করেও বিল না যাওয়ায় ঠিকাদারগন মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।

অপরদিকে অসাধু ঠিকাদার উক্ত কাজকে লস প্রজেক্ট দেখিয়ে নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। নিম্নমান সামগ্রী নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও ঠিকাদারের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়। কাজ ভালো করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক পর্যায়ে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকাও হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জৈনিক মুক্তিযোদ্ধা সাহেবগঞ্জ গ্রামের মুকবুল আহাম্মেদ তার নামে বরাদ্দ হওয়া বীর নিবাস করার জন্য নিম্নমানের ইটদেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রতন পাটওয়ারীকে তার কাজ করতে বাধা দেয়। নিরুপায় হয়ে মুক্তিযোদ্ধা মুকবুল আহাম্মেদ এ ঠিকাদেরর কাজের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। একই অভিযোগ দিয়েছে ওই এলাকার আরেক মুক্তিযোদ্ধা দুলা মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান।

অপরদিকে ঠিকাদার কাজ করেও সরকারের বেঁধে দেয়া স্বর্ত মতে বিল না পাওয়ায় বেশ কয়টি বীর নিবাসের কাজ বন্ধ রয়েছে। আবার কিছু কিছু কাজ চলছে ধীর গতিতে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধা , ঠিকাদার ও পিআইও অফিসে চলছে নানা অস্থিরতা।

বীর নিবাস নির্মান কাজের এক ঠিকাদার মামুনুর রশিদ পাঠান ও জাকির হোসেন বলেন, এই কাজ করতে সরকারেরই নিয়মনীতি মোতাবেক আমাদের কাংক্ষিত বিল পাচ্ছি না। বিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একাধিকবার মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে।

আরেক ঠিকাদার বিল্লাল হোসেন বলেন, সরকারি নিয়মনীতি মেনে কাজ করেও যদি বিল না পাই তাহলে কি ভাবে কাজ করবো। এই কাজের বিল পেতে এতো বিড়ম্বনা পোহাতে হবে তা আগে জানলে একটি কাজেরও টেন্ডারে অংশ গ্রহন করতাম না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা (পিআইও) মিল্টন দস্তীদার বীর নিবাস নির্মান কাজের ধীর গতির কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারকে বিল দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিল না পেয়ে বেশ কয়জন ঠিকাদার কাজে ধীর গতি রয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, উক্ত কাজ ভালো করার নামে মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে কেউতো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় ছাত্রীসহ প্রধান শিক্ষক আটক

ফরিদগঞ্জে ৯৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীর নিবাস’ নির্মানে ধীরগতি

আপডেট সময় : ০৪:৪১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

এস এম ইকবাল: মজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নে মোট ৯৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি অর্থায়ানে বরাদ্দ করা স্বপ্নের বীর নিবাস নির্মানের কাজ চলছে ধীর গতিতে। ঠিকাদারগন যথাসময়ে বিল না পাওয়ার অজুহাতে বীর নিবাসের কাজ বন্ধ রেখেছে আবার কিছু কাজ চলছে ধীর গতিতে। এ নিয়ে উপকার ভোগী ও ঠিকাদারদের মধ্যে অসন্তুুষ বিরাজ করতে দেখা যায়। যথাসময়ে কাজের বিল না পাওয়ায় ঠিকাদারদের মধ্যেও এক ধরনরে অস্থিরতা বিরাজ করতে দেখা যায়।

Model Hospital

অপরদিকে এই কাজে ঠিকাদারের লস (ক্ষতি) হবে বলে বিভিন্ন ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে কৌশলে নানা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা হয়রানী হওয়ার ভয়ে মুক্তিযোদ্ধা কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ কিংবা অভিযোগ দেয়ার সাহস পাচ্ছে না। যারা টাকা দিতে চাচ্ছে না তাদের কাজ নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারা ভাবেই বীর নিবাস নির্মানের কাজ চলছে বলে নানা অভিযোগ উঠেছে। আবার কোন কোন বীর নিবাসের কিয়দাংশ কাজ করে বিল না পাওয়ার অজুহাতে ওই কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় দেয়ালে শেওলা পড়ে আছে।

বীর নিবাসের নির্মান কাজ শেষ না হওয়ায় ৯৭ জন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা নিরুপায় হয়ে এখন কেউ কেউ অন্যর ঘরে আবার কেউবা ছাপড়া ঘরে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। কবে নাগাদ বীর নিবাসের নির্মান কাজ শেষ করা হবে তা কেউই সুনির্র্দিষ্ট ভাবে বলতে পাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বীর নিবাস নির্মানের জন্য তালিকা প্রেরন করেন চাঁদপুর ৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাংসদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান। এই তালিকা যাছাই বাছাই শেষে ৯৭ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার জন্য স্বপ্নের বীর নিবাস নির্মান কল্পে উপজেলা পিআইও অফিসের মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি বীর নিবাসের জন্য সরকারি ভাবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারন করা হয়। ১৬ জন ঠিকাদার উক্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য ওয়ার্ক ওয়াডার হাতে পেয়ে গত অক্টোবর মাসে এর কাজ শুরু করেন। গত প্রায় ৩ মাসে ১টি বীর নিবাস নির্মান কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। অনেকেই বলছে ঠিক মতে কাজ করলে প্রায় এক মাসের মধ্যেই প্রতিটি বীর নিবাসের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব ।

এদিকে যে সব মুক্তিযোদ্ধা তাদের পূর্বেও টিনসেড ঘর ভেংগে ওই স্থানে বীর নিবাস নির্মানের জন্য ঠিকাদারকে জায়গা বুঝিয়ে দেয়। কাজটি চলমান অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা কেউ কেউ থাকছেন পাক ঘ্ের আবার কেউবা থাকছেন পাশে নির্মান করা ছাপড়া ঘরে। এক রকম বাধ্য হয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবন যাপন করতে দেখা যায়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক, বীর নিবাস পাওয়া কয়জন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের লোকজন জানান, কাজ শুরু থেকে গত কয়েকমাস যাবৎ অন্যের ঘরে থাকতে হচ্ছে। কেউবা থাকছেন পাশের ছাপড়া ঘরে।

অসচছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এম ইদ্রিস সিদ্দিকীর স্বাক্ষর ও স্বারক নং সম্বলিত গত ২৫ জানুয়ারী একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঠিকাদার বীর নিবাসের ছাদ ঢালাইয়ের পর নির্মান কাজ চলমান রাখলে শতকরা ২৫ শতাংশ বিল পাবে। এ ছাড়া ফিটিং ওয়ার্ক কমপ্লিট করে বীর নিবাস সম্পূর্ন বসবাসের উপযোগী করলে ২য় চলতি বিল ২৫ শতাংশ পাবে। বীর নিবাসের বাহিরের রং, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধার লোগো স্থাপন করে বীর নিবাস,মজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার লেখাসহ হস্তান্তর যোগ্য হলে ঠিকাদারগন তৃতীয় চলতি বিল ২৫ শতাংশ বিল পাবে। মন্ত্রনালয়ের দেয়া এই সর্ত পূরন করেও বিল না যাওয়ায় ঠিকাদারগন মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।

অপরদিকে অসাধু ঠিকাদার উক্ত কাজকে লস প্রজেক্ট দেখিয়ে নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন। নিম্নমান সামগ্রী নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও ঠিকাদারের মধ্যে বাকযুদ্ধ শুরু হয়। কাজ ভালো করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক পর্যায়ে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকাও হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জৈনিক মুক্তিযোদ্ধা সাহেবগঞ্জ গ্রামের মুকবুল আহাম্মেদ তার নামে বরাদ্দ হওয়া বীর নিবাস করার জন্য নিম্নমানের ইটদেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রতন পাটওয়ারীকে তার কাজ করতে বাধা দেয়। নিরুপায় হয়ে মুক্তিযোদ্ধা মুকবুল আহাম্মেদ এ ঠিকাদেরর কাজের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। একই অভিযোগ দিয়েছে ওই এলাকার আরেক মুক্তিযোদ্ধা দুলা মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান।

অপরদিকে ঠিকাদার কাজ করেও সরকারের বেঁধে দেয়া স্বর্ত মতে বিল না পাওয়ায় বেশ কয়টি বীর নিবাসের কাজ বন্ধ রয়েছে। আবার কিছু কিছু কাজ চলছে ধীর গতিতে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধা , ঠিকাদার ও পিআইও অফিসে চলছে নানা অস্থিরতা।

বীর নিবাস নির্মান কাজের এক ঠিকাদার মামুনুর রশিদ পাঠান ও জাকির হোসেন বলেন, এই কাজ করতে সরকারেরই নিয়মনীতি মোতাবেক আমাদের কাংক্ষিত বিল পাচ্ছি না। বিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে একাধিকবার মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছে।

আরেক ঠিকাদার বিল্লাল হোসেন বলেন, সরকারি নিয়মনীতি মেনে কাজ করেও যদি বিল না পাই তাহলে কি ভাবে কাজ করবো। এই কাজের বিল পেতে এতো বিড়ম্বনা পোহাতে হবে তা আগে জানলে একটি কাজেরও টেন্ডারে অংশ গ্রহন করতাম না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা (পিআইও) মিল্টন দস্তীদার বীর নিবাস নির্মান কাজের ধীর গতির কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারকে বিল দেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিল না পেয়ে বেশ কয়জন ঠিকাদার কাজে ধীর গতি রয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, উক্ত কাজ ভালো করার নামে মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে কেউতো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।