ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শাহমাহমুদপুরে চেয়ারম্যান-মেম্বারের নির্দেশে সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুর সদর উপজেলার ঘোষেরহাট- শাহতলী রেল লাইন এলজিইডি সড়কের পাশে থাকা সরকারি গাছ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নির্দেশে কর্তন চলছে। শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত উক্ত সড়কের পাশে থাকা বৃহৎ আকৃতির গাছ অনুমতি ছাড়াই কাটা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট-শাহতলী রেললাইন সড়কের ৪নং ওয়ার্ড বড় শাহাতলী গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার পাশের বৃহৎ আকারের রেইনট্রি গাছ কেটে নিয়েছে স্থানীয়রা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতাধীন সড়কের পাশে লাগানো গাছ গুলোর মধ্যে একটি গাছ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী ও ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেনের নির্দেশে গাছটি কাটা হয়েছে।
হান্নান গাজী ও মাহমুদুল হাসান রাজুসহ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, এলজিইডি সড়কের পাশের এই গাছটি পুকুর পাড়ে হওয়ায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ার আশংকায় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী ও মেম্বার বিল্লাল হোসেন খানের অনুমতি সাপেক্ষে গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। গাছটি কেটে ওখানেই ফেলে রাখা হয়েছে। আর ডালগুলো বিক্রি করে কর্মীদের মুজুরি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন খান বলেন, আমাকে স্থানীয়রা বিষয়টি জানিয়েছে তবে আমি কোন অনুমতি দেইনি। আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমনটা করছে। শাহমাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী বলেন, আমি সরকারি গাছ কাটার অনুমতি কাউকে দেইনি। তবে কয়েকজন এলাকাবাসী আমাকে এ বিষয়ে অবগত করার পর তাদেরকে বলেছি আপনারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে যেটা ভালো হয় সেটা করেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন কাজী বলেন, সড়কের যেকোন গাছ কাটতে হলে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। যদি কোন গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে উপজেলা মাসিক মিটিং এ বিষয়টি উপস্থাপনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে গাছ কাটতে হবে। তবে প্রশাসনকে অবগত না করে গাছ কেটে থাকলে কাজটি মোটেও ঠিক করেন নি।
এদিকে বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০১১ সালে দি সামস বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ঘোষেরহাট হইতে শাহাতলী রেল লাইন পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কের পাশের রোপিত ২ হাজার গাছের চারাসহ লিজ নেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে কর্তনকৃত উক্ত গাছটিও এর মধ্যে পড়তে পারে। আর যদি নাও পড়ে তাহলে এর মালিক সরকার। তবুও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে গাছটি কাটার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়াও এলাকাবাসী বলছেন গাছটি কাটার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের অনুমতি রয়েছে। অথচ জনপ্রতিনিধিরা এর কিছুই বলেন না।
ট্যাগস :

শাহমাহমুদপুরে চেয়ারম্যান-মেম্বারের নির্দেশে সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ!

আপডেট সময় : ০২:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ নভেম্বর ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁদপুর সদর উপজেলার ঘোষেরহাট- শাহতলী রেল লাইন এলজিইডি সড়কের পাশে থাকা সরকারি গাছ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নির্দেশে কর্তন চলছে। শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত উক্ত সড়কের পাশে থাকা বৃহৎ আকৃতির গাছ অনুমতি ছাড়াই কাটা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট-শাহতলী রেললাইন সড়কের ৪নং ওয়ার্ড বড় শাহাতলী গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার পাশের বৃহৎ আকারের রেইনট্রি গাছ কেটে নিয়েছে স্থানীয়রা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতাধীন সড়কের পাশে লাগানো গাছ গুলোর মধ্যে একটি গাছ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী ও ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেনের নির্দেশে গাছটি কাটা হয়েছে।
হান্নান গাজী ও মাহমুদুল হাসান রাজুসহ কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, এলজিইডি সড়কের পাশের এই গাছটি পুকুর পাড়ে হওয়ায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ার আশংকায় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী ও মেম্বার বিল্লাল হোসেন খানের অনুমতি সাপেক্ষে গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে। গাছটি কেটে ওখানেই ফেলে রাখা হয়েছে। আর ডালগুলো বিক্রি করে কর্মীদের মুজুরি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন খান বলেন, আমাকে স্থানীয়রা বিষয়টি জানিয়েছে তবে আমি কোন অনুমতি দেইনি। আমার প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমনটা করছে। শাহমাহমুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদুর রহমান নান্টু পাটওয়ারী বলেন, আমি সরকারি গাছ কাটার অনুমতি কাউকে দেইনি। তবে কয়েকজন এলাকাবাসী আমাকে এ বিষয়ে অবগত করার পর তাদেরকে বলেছি আপনারা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে যেটা ভালো হয় সেটা করেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন কাজী বলেন, সড়কের যেকোন গাছ কাটতে হলে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। যদি কোন গাছ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে উপজেলা মাসিক মিটিং এ বিষয়টি উপস্থাপনের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে গাছ কাটতে হবে। তবে প্রশাসনকে অবগত না করে গাছ কেটে থাকলে কাজটি মোটেও ঠিক করেন নি।
এদিকে বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০১১ সালে দি সামস বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ঘোষেরহাট হইতে শাহাতলী রেল লাইন পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কের পাশের রোপিত ২ হাজার গাছের চারাসহ লিজ নেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে কর্তনকৃত উক্ত গাছটিও এর মধ্যে পড়তে পারে। আর যদি নাও পড়ে তাহলে এর মালিক সরকার। তবুও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে গাছটি কাটার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়াও এলাকাবাসী বলছেন গাছটি কাটার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের অনুমতি রয়েছে। অথচ জনপ্রতিনিধিরা এর কিছুই বলেন না।