ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এক মাসে এক ডিমে বেড়েছে ৪ টাকা!

ঠিক এক মাস আগে একটি ডিমের দাম ছিল ১০ টাকা। যা বাড়তে বাড়তে এখন ১৪ টাকায় ঠেকেছে। গত কয়েকদিন ধরে এ দামেই বিক্রি হচ্ছে ফার্মের মুরগির ডিম। যা গত সপ্তাহের চেয়ে প্রতি পিসে ১ টাকা বেশি। হিসাবে দেখা গেছে, চলতি মাসের প্রতি সপ্তাহে একেকটি ডিমে বেড়েছে ১ টাকা করে। ফলে মাসের চার সপ্তাহে এক ডিমে বেড়েছে ৪ টাকা!

Model Hospital

গত দুই বছর ধরেই জুলাই-আগস্টে ডিমের দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে। দুই বছর আগে (২০২২ সাল) ঠিক এ সময়েই ডিমের ডজন প্রথমবারের মতো ১৫০ টাকা উঠেছিল। গত বছর ছিল ১৫৫ টাকা। এবারও অবশ্য একটু আগেভাগেই ডিমের দামে নতুন রেকর্ড হলো। বাজারে এখন প্রতি ডজন ডিমের দাম ছুঁয়েছে ১৬০ টাকা।

প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, ডিমের করপোরেট ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের পুরনো চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠায় বাজারে এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে গত শনিবার (২৫ মে) বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) সংবাদ সম্মেলনও করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, সারাদেশে হঠাৎ করেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিমের বাজার অস্থির হয়ে যায়। এর নেপথ্যে রয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কারসাজি। কারণ, তারাই সারাদেশের ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন।

ডিম ব্যবসায়ী সমিতি এবং করপোরেট কোম্পানিগুলোর কারসাজিতে হুটহাট বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। ক্ষুদ্র খামারিরা যখন ডিম উৎপাদন করেন, তখন করপোরেট প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক চক্র দাম কমিয়ে রাখে। এ অবস্থায় প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদনে টিকে থাকতে পারেন না। তখন ক্ষুদ্র খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দিলে এ অসাধু চক্র ইচ্ছেমতো দাম বাড়ায়। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নিঃস্ব হচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা।

করপোরেট কোম্পানি থেকে আড়তে এবং সেখান থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীদের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে ও ফেসবুকে পোস্ট করে ডিমের বাড়তি বা কম দাম বাস্তবায়ন করে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি। আর সারাদেশেই এ দামে তখন বেচাকেনা চলে। তারা ইচ্ছেমতো ডিমের দাম কমিয়ে কোল্ড স্টোরেজে জমা করে এবং পরবর্তীসময়ে সেই ডিমই আবার বাড়তি দামে বাজারে ছাড়া হয়।

বুধবার রাজধানীর রামপুরা ও মালিবাগ বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে ডিমের বাজারের বর্তমান চিত্র পাওয়া গেছে। বড় বাজারগুলোতে এখন প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৫৬ টাকায়। যা পাড়া-মহল্লার দোকানে ১৬০ টাকা।

মালিবাগ বাজারের ডিম বিক্রেতা মাসুদ মিয়া বলেন, ফার্মের মুরগির একটি ডিম পাইকারিতে কিনতে হচ্ছে ১৩ টাকারও বেশি দামে। সামান্য লাভে বিক্রি করলেও প্রতি ডজনের দাম ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে অনেক ডিম ভেঙে যায়। ফলে খুচরায় প্রতি ডজন ১৬০ টাকার কমে বিক্রি করলে লোকসান হয়।

‘এখন ডিমের দাম সবোর্চ্চ। দাম বাড়ায় ক্রেতা কমেছে। আপাতত দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই’- যোগ করেন এ বিক্রেতা।

বাজারে বাদামি ডিমের চেয়ে সাদা রঙের ডিমের দাম তুলনামূলকভাবে একটু কমই থাকে। তবে এ দফায় দুই পদের ডিমের দামই সমান হয়ে গেছে। বড় বাজারগুলোতে বাদামি ডিম প্রতি পিস কিনতে হচ্ছে ১৩ টাকা বা তারও বেশি দামে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক মাসে রাজধানী ঢাকার বাজারগুলোতে ডিমের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ। এক মাস আগেও রাজধানীতে প্রতি হালি ডিম মিলতো ৪০-৪২ টাকায়। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকায়।

পাইকারি ডিম বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ডিমের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। এছাড়া গত মাসের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা। অতি গরমে অনেকের খামারে মুরগি মারাও গেছে।

দেশের মানুষ অনেক দিন ধরেই প্রতি পিস ডিম ১০ টাকায় কিনে অভ্যস্ত ছিল। তবে গত তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে ডিমের দাম। এ ভোগ্যপণ্যটির বাজার হয়ে উঠেছে অস্থির। বর্তমানেও বিক্রি হচ্ছে সবোর্চ্চ দামে। দেশে এর আগে কখনো এত দামে মানুষকে ডিম কিনতে হয়নি বলে জানিয়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, ২০০৯ ও ২০১০ সালে ডিমের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছিল। কারণ ছিল বার্ড ফ্লু। তখন এ রোগের কারণে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যায়। তাতে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। কিন্তু তখনো দাম এতোটা বাড়েনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে মাদরাসাতু মুহাম্মদ সাঃ উদ্বোধন

এক মাসে এক ডিমে বেড়েছে ৪ টাকা!

আপডেট সময় : ১২:১০:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

ঠিক এক মাস আগে একটি ডিমের দাম ছিল ১০ টাকা। যা বাড়তে বাড়তে এখন ১৪ টাকায় ঠেকেছে। গত কয়েকদিন ধরে এ দামেই বিক্রি হচ্ছে ফার্মের মুরগির ডিম। যা গত সপ্তাহের চেয়ে প্রতি পিসে ১ টাকা বেশি। হিসাবে দেখা গেছে, চলতি মাসের প্রতি সপ্তাহে একেকটি ডিমে বেড়েছে ১ টাকা করে। ফলে মাসের চার সপ্তাহে এক ডিমে বেড়েছে ৪ টাকা!

Model Hospital

গত দুই বছর ধরেই জুলাই-আগস্টে ডিমের দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে। দুই বছর আগে (২০২২ সাল) ঠিক এ সময়েই ডিমের ডজন প্রথমবারের মতো ১৫০ টাকা উঠেছিল। গত বছর ছিল ১৫৫ টাকা। এবারও অবশ্য একটু আগেভাগেই ডিমের দামে নতুন রেকর্ড হলো। বাজারে এখন প্রতি ডজন ডিমের দাম ছুঁয়েছে ১৬০ টাকা।

প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, ডিমের করপোরেট ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের পুরনো চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠায় বাজারে এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে গত শনিবার (২৫ মে) বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) সংবাদ সম্মেলনও করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, সারাদেশে হঠাৎ করেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিমের বাজার অস্থির হয়ে যায়। এর নেপথ্যে রয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির কারসাজি। কারণ, তারাই সারাদেশের ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন।

ডিম ব্যবসায়ী সমিতি এবং করপোরেট কোম্পানিগুলোর কারসাজিতে হুটহাট বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। ক্ষুদ্র খামারিরা যখন ডিম উৎপাদন করেন, তখন করপোরেট প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক চক্র দাম কমিয়ে রাখে। এ অবস্থায় প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদনে টিকে থাকতে পারেন না। তখন ক্ষুদ্র খামারিরা উৎপাদন কমিয়ে দিলে এ অসাধু চক্র ইচ্ছেমতো দাম বাড়ায়। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নিঃস্ব হচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা।

করপোরেট কোম্পানি থেকে আড়তে এবং সেখান থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীদের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে ও ফেসবুকে পোস্ট করে ডিমের বাড়তি বা কম দাম বাস্তবায়ন করে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি। আর সারাদেশেই এ দামে তখন বেচাকেনা চলে। তারা ইচ্ছেমতো ডিমের দাম কমিয়ে কোল্ড স্টোরেজে জমা করে এবং পরবর্তীসময়ে সেই ডিমই আবার বাড়তি দামে বাজারে ছাড়া হয়।

বুধবার রাজধানীর রামপুরা ও মালিবাগ বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে ডিমের বাজারের বর্তমান চিত্র পাওয়া গেছে। বড় বাজারগুলোতে এখন প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৫৬ টাকায়। যা পাড়া-মহল্লার দোকানে ১৬০ টাকা।

মালিবাগ বাজারের ডিম বিক্রেতা মাসুদ মিয়া বলেন, ফার্মের মুরগির একটি ডিম পাইকারিতে কিনতে হচ্ছে ১৩ টাকারও বেশি দামে। সামান্য লাভে বিক্রি করলেও প্রতি ডজনের দাম ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে অনেক ডিম ভেঙে যায়। ফলে খুচরায় প্রতি ডজন ১৬০ টাকার কমে বিক্রি করলে লোকসান হয়।

‘এখন ডিমের দাম সবোর্চ্চ। দাম বাড়ায় ক্রেতা কমেছে। আপাতত দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই’- যোগ করেন এ বিক্রেতা।

বাজারে বাদামি ডিমের চেয়ে সাদা রঙের ডিমের দাম তুলনামূলকভাবে একটু কমই থাকে। তবে এ দফায় দুই পদের ডিমের দামই সমান হয়ে গেছে। বড় বাজারগুলোতে বাদামি ডিম প্রতি পিস কিনতে হচ্ছে ১৩ টাকা বা তারও বেশি দামে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক মাসে রাজধানী ঢাকার বাজারগুলোতে ডিমের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ। এক মাস আগেও রাজধানীতে প্রতি হালি ডিম মিলতো ৪০-৪২ টাকায়। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকায়।

পাইকারি ডিম বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে ডিমের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। এছাড়া গত মাসের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারিরা। অতি গরমে অনেকের খামারে মুরগি মারাও গেছে।

দেশের মানুষ অনেক দিন ধরেই প্রতি পিস ডিম ১০ টাকায় কিনে অভ্যস্ত ছিল। তবে গত তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে ডিমের দাম। এ ভোগ্যপণ্যটির বাজার হয়ে উঠেছে অস্থির। বর্তমানেও বিক্রি হচ্ছে সবোর্চ্চ দামে। দেশে এর আগে কখনো এত দামে মানুষকে ডিম কিনতে হয়নি বলে জানিয়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, ২০০৯ ও ২০১০ সালে ডিমের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছিল। কারণ ছিল বার্ড ফ্লু। তখন এ রোগের কারণে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যায়। তাতে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। কিন্তু তখনো দাম এতোটা বাড়েনি।