ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে ধর্ষণ ও অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগে ৪জনকে জেল হাজতে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি : পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় দ্রুত স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ ও গর্ভপাতের ঘটনায় ধর্ষক সিরাজসহ চারজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Model Hospital

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ ঘটনা নিয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ।

মামলায় ধর্ষক সিরাজুল ইসলাম (৬০), তার মেয়ে বকুল বেগম (২৮), ছেলের বৌ সীমা বেগম (২৮), ও ইসলামীয়া মর্ডান হাসপাতালের আয়া নাজমা বেগম (৪৫) কে জেল হাজাতে পাঠানো হয়।

হাজীগঞ্জ উপজেলায় সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে নানা পরিচয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। ছয় মাস আগে সে গর্ভপাত হয়ে পড়ে । পুলিশ ঘটনা জানার তিনঘণ্টার মধ্যে ধর্ষক সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে উপজেলার মেনাপুর গ্রাম থেকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, ছয় মাসের নবজাতককে পৌরসভার ডাস্টবিনে ফেলে দিলো ধর্ষকের ছেলের বউ ও মেয়ে।  ঘটনাটি হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮ নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়ন এলাকার। বৃহস্পতিবার সকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ এলাকার একটি বাসায় ছয় মাসের নবজাতককে প্রসব করে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়। বুধবার রাতে পুলিশ সেই নবজাতকের মৃতদেহ পৌরসভার ময়লা ফেলানোর গাড়ির গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করেন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুবাইর সৈয়দ জানান, ধর্ষিতার মা তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

আটককৃত ধর্ষক হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ দাই বাড়ী বাসিন্দা ছিলেন। পরে তিনি হাটিলা ইউনিয়নের হাড়িয়াইন আড়ং বাজারের পাশে একটি বাড়ী করেন। সেখানে তিনি বসবাস করে ঘটনার জন্ম দেয়। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা উপ-পরিদর্শক মহসিন ঘটনাস্থলে যান।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন অর্থ) সুদীপ্ত রায়, জেলা বিশেষ শাখার কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোহাম্মদ জোবায়ের সৈয়দ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মহসিন কবির প্রমুখ।

পুলিশ সুপার জানান, বৃদ্ধের এমন জঘন্য এবং অনৈতিক কাজের জন্য যারা সহযোগিতা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধ এবং ঘটনার শিকার ১৪ বছরের কিশোরীর ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। এতে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম ছাড়াও আরও তিন নারীকে আসামি করা হয়েছে। যারা শিশুটির গর্ভপাত ঘটানোর সঙ্গে জড়িত।

পরে পুলিশ হাজীগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে ইসলামিয়া হাসপাতাল নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের আয়া নাজমা বেগমকে গ্রেফতার করে। নাজমা অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলামের মেয়ে বকুল ও ছেলের স্ত্রী সীমার সহায়তায় কিশোরীটিকে গর্ভপাত ঘটান।

গতকাল বুধবার দুপুরে এই হাসপাতালের আয়াকে বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে কিশোরীটির গর্ভপাত ঘটানো হয়। এ সময় ১৪ বছরের কিশোরীটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। এদিকে, ঘটনার দায় স্বীকার করায় দুপুরে অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার শিকার শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাজীগঞ্জে ধর্ষণ ও অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগে ৪জনকে জেল হাজতে প্রেরণ

আপডেট সময় : ১১:০৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ মার্চ ২০২২

নিজস্ব প্রতিনিধি : পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় দ্রুত স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ ও গর্ভপাতের ঘটনায় ধর্ষক সিরাজসহ চারজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Model Hospital

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ ঘটনা নিয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ।

মামলায় ধর্ষক সিরাজুল ইসলাম (৬০), তার মেয়ে বকুল বেগম (২৮), ছেলের বৌ সীমা বেগম (২৮), ও ইসলামীয়া মর্ডান হাসপাতালের আয়া নাজমা বেগম (৪৫) কে জেল হাজাতে পাঠানো হয়।

হাজীগঞ্জ উপজেলায় সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে নানা পরিচয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। ছয় মাস আগে সে গর্ভপাত হয়ে পড়ে । পুলিশ ঘটনা জানার তিনঘণ্টার মধ্যে ধর্ষক সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে উপজেলার মেনাপুর গ্রাম থেকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, ছয় মাসের নবজাতককে পৌরসভার ডাস্টবিনে ফেলে দিলো ধর্ষকের ছেলের বউ ও মেয়ে।  ঘটনাটি হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮ নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়ন এলাকার। বৃহস্পতিবার সকালে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ এলাকার একটি বাসায় ছয় মাসের নবজাতককে প্রসব করে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়। বুধবার রাতে পুলিশ সেই নবজাতকের মৃতদেহ পৌরসভার ময়লা ফেলানোর গাড়ির গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করেন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুবাইর সৈয়দ জানান, ধর্ষিতার মা তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

আটককৃত ধর্ষক হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ দাই বাড়ী বাসিন্দা ছিলেন। পরে তিনি হাটিলা ইউনিয়নের হাড়িয়াইন আড়ং বাজারের পাশে একটি বাড়ী করেন। সেখানে তিনি বসবাস করে ঘটনার জন্ম দেয়। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা উপ-পরিদর্শক মহসিন ঘটনাস্থলে যান।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন অর্থ) সুদীপ্ত রায়, জেলা বিশেষ শাখার কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোহাম্মদ জোবায়ের সৈয়দ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মহসিন কবির প্রমুখ।

পুলিশ সুপার জানান, বৃদ্ধের এমন জঘন্য এবং অনৈতিক কাজের জন্য যারা সহযোগিতা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধ এবং ঘটনার শিকার ১৪ বছরের কিশোরীর ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। এতে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম ছাড়াও আরও তিন নারীকে আসামি করা হয়েছে। যারা শিশুটির গর্ভপাত ঘটানোর সঙ্গে জড়িত।

পরে পুলিশ হাজীগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে ইসলামিয়া হাসপাতাল নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের আয়া নাজমা বেগমকে গ্রেফতার করে। নাজমা অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলামের মেয়ে বকুল ও ছেলের স্ত্রী সীমার সহায়তায় কিশোরীটিকে গর্ভপাত ঘটান।

গতকাল বুধবার দুপুরে এই হাসপাতালের আয়াকে বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে কিশোরীটির গর্ভপাত ঘটানো হয়। এ সময় ১৪ বছরের কিশোরীটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। এদিকে, ঘটনার দায় স্বীকার করায় দুপুরে অভিযুক্তদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ঘটনার শিকার শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।