ঢাকা ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে ভালবাসা দিবসে প্রেমিকের জন্য ফাঁস দিয়ে প্রেমিকার আত্মহত্যা

প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার : ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে প্রেমিক কে ভালোবাসার প্রতিদান দিলেন প্রেমিকা। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর শহরতলীর বাবুরহাট এলাকায়।
তাই তো ভালোবাসার মানুষের সাথে বিয়ে দিতে রাজী না হওয়ায় ভালোবাসা কে চির স্মরনীয় করে রাখতে কিশোরী আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিয়েছে।
জানা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের  বাবুরহাট এলাকার মাল পরিবারে এ আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। বাবুরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক হুমায়ন কবির দুলাল মালের ছোট ভাই কামাল হোসেন মালের বড় মেয়ে বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী কারিমা আক্তার (১৬) আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) বিশ্ব ভালবাসা দিবসের সকালে বাবার বাড়িতে নিজ কক্ষের জানালার গ্রীলের সাথে গলায় ওড়না প্যাচিয়ে সে আত্মহত্যা করে।
কারিমার পিতা কামাল হোসেন মাল জানান,  ৩ মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে কারিমা সবার বড়। ঘটনার দিন  সকাল ৭টার দিকে মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছোট ২ মেয়েকে মাদ্রাসায় নাস্তা দিতে যায়। এ সময় কারিমা তার কক্ষে শোয়া ছিলো বলে তিনি জানান। তাঁর স্ত্রী অন্য কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। দু’খালা আরেক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘন্টা খানেক পর তিনি বাসায় ফির আসেন। দেখতে পান কারিমার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেকক্ষন ডাকাডাকি করে ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ কর দেখত পান জানালার গ্রীলের সাথে কারিমার নিথর দেহ ঝুলে আছে। তরিঘড়ি  করে ঝুলন্ত অবস্হা থেকে কারিমার নিথর দেহ নামিয়ে মেঝেতে রাখেন।
একটি সূত্র থেকে  জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তার মেয়ে মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত। সে তাঁর পছন্দের  প্রেমিক ছেলেকে বিয়ে করতে বাবা মায়ের কাছে বায়না করছিলো। পরিবার বলেছিলো  আগে তুমি পড়া লেখা শেষ করো, তারপর বিয়ের কথা আমরা চিন্তা করবো। কিন্তু অভিমানী কারিমা তাঁর অবস্থানে অনড় ছিলো। ফলে পরিবারের সদস্যদের সাথে অভিমান করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা যায়।
একটি সূত্র থেকে জানাযায়, কারিমা বছর কয়েক আগে তার পূর্বের  প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়েছে ।পরে তা পারিবারিক ভাবে মিমাংশা করা হলে ঐ প্রেমিক যুবক  অন্যত্র বিয়ে করে বর্তমানে  সংসার জীবন করেছে।
একটি সূত্র থেকে  জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তার মেয়ে মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত। সে কামাল মালের মেয়ে  প্রেমিক ছেলেকে বিয়ে করতে বাবা মায়ের কাছে বায়না করছিল। পরিবার বলেছিল আগে তুমি পড়া লেখা শেষ করো তারপর বিয়ের কথা আমরা চিন্তা করবো।
আত্মহত্যাকারি কারিমা বছর কয়েক আগে তার পূর্বের প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়েছি। তা পারিবারিক ভাবে মিমাংশা করা হলে ঐ প্রেমিক যুবক  অন্যত্র বিয়ে করে বর্তমানে সংসার জীবন করছে। নতুন ভাবে কারিমা চাঁদপুর শহরের  কোনো এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে।কিন্তু  পরিবার এ প্রেম মেনে নেবে না, এমন কথা গত   ৩ দিন আগে তাঁকে জানিয়ে দেওয়ার কারণে  শয়নকক্ষে বসে নিজের হাত নিজেই কেটে সাদা কাগজে কি যেন লিখে।
এদিকে এই তরুনীর  আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্হলে ছুটে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাঁদপুর সদর (সার্কেল) আসিফ মহিউদ্দিন, চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক ( ইন্টেলিজেন্ট) এনামুল হক চৌধুরী, উপ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম।পুলিশ কর্মকর্তারা কারিমার রক্তমাখা কাগজ গুলো উদ্ধার করে নিয়ে আসে এবং ময়না তদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

উদয়ন প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পূর্ণ

চাঁদপুরে ভালবাসা দিবসে প্রেমিকের জন্য ফাঁস দিয়ে প্রেমিকার আত্মহত্যা

আপডেট সময় : ০৩:৪০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২
স্টাফ রিপোর্টার : ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে প্রেমিক কে ভালোবাসার প্রতিদান দিলেন প্রেমিকা। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর শহরতলীর বাবুরহাট এলাকায়।
তাই তো ভালোবাসার মানুষের সাথে বিয়ে দিতে রাজী না হওয়ায় ভালোবাসা কে চির স্মরনীয় করে রাখতে কিশোরী আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিয়েছে।
জানা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের  বাবুরহাট এলাকার মাল পরিবারে এ আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। বাবুরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক হুমায়ন কবির দুলাল মালের ছোট ভাই কামাল হোসেন মালের বড় মেয়ে বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী কারিমা আক্তার (১৬) আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) বিশ্ব ভালবাসা দিবসের সকালে বাবার বাড়িতে নিজ কক্ষের জানালার গ্রীলের সাথে গলায় ওড়না প্যাচিয়ে সে আত্মহত্যা করে।
কারিমার পিতা কামাল হোসেন মাল জানান,  ৩ মেয়ে ১ ছেলের মধ্যে কারিমা সবার বড়। ঘটনার দিন  সকাল ৭টার দিকে মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছোট ২ মেয়েকে মাদ্রাসায় নাস্তা দিতে যায়। এ সময় কারিমা তার কক্ষে শোয়া ছিলো বলে তিনি জানান। তাঁর স্ত্রী অন্য কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। দু’খালা আরেক কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘন্টা খানেক পর তিনি বাসায় ফির আসেন। দেখতে পান কারিমার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেকক্ষন ডাকাডাকি করে ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পাওয়ায় দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ কর দেখত পান জানালার গ্রীলের সাথে কারিমার নিথর দেহ ঝুলে আছে। তরিঘড়ি  করে ঝুলন্ত অবস্হা থেকে কারিমার নিথর দেহ নামিয়ে মেঝেতে রাখেন।
একটি সূত্র থেকে  জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তার মেয়ে মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত। সে তাঁর পছন্দের  প্রেমিক ছেলেকে বিয়ে করতে বাবা মায়ের কাছে বায়না করছিলো। পরিবার বলেছিলো  আগে তুমি পড়া লেখা শেষ করো, তারপর বিয়ের কথা আমরা চিন্তা করবো। কিন্তু অভিমানী কারিমা তাঁর অবস্থানে অনড় ছিলো। ফলে পরিবারের সদস্যদের সাথে অভিমান করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা যায়।
একটি সূত্র থেকে জানাযায়, কারিমা বছর কয়েক আগে তার পূর্বের  প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়েছে ।পরে তা পারিবারিক ভাবে মিমাংশা করা হলে ঐ প্রেমিক যুবক  অন্যত্র বিয়ে করে বর্তমানে  সংসার জীবন করেছে।
একটি সূত্র থেকে  জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তার মেয়ে মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত। সে কামাল মালের মেয়ে  প্রেমিক ছেলেকে বিয়ে করতে বাবা মায়ের কাছে বায়না করছিল। পরিবার বলেছিল আগে তুমি পড়া লেখা শেষ করো তারপর বিয়ের কথা আমরা চিন্তা করবো।
আত্মহত্যাকারি কারিমা বছর কয়েক আগে তার পূর্বের প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গিয়েছি। তা পারিবারিক ভাবে মিমাংশা করা হলে ঐ প্রেমিক যুবক  অন্যত্র বিয়ে করে বর্তমানে সংসার জীবন করছে। নতুন ভাবে কারিমা চাঁদপুর শহরের  কোনো এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে।কিন্তু  পরিবার এ প্রেম মেনে নেবে না, এমন কথা গত   ৩ দিন আগে তাঁকে জানিয়ে দেওয়ার কারণে  শয়নকক্ষে বসে নিজের হাত নিজেই কেটে সাদা কাগজে কি যেন লিখে।
এদিকে এই তরুনীর  আত্মহত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্হলে ছুটে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাঁদপুর সদর (সার্কেল) আসিফ মহিউদ্দিন, চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক ( ইন্টেলিজেন্ট) এনামুল হক চৌধুরী, উপ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম।পুলিশ কর্মকর্তারা কারিমার রক্তমাখা কাগজ গুলো উদ্ধার করে নিয়ে আসে এবং ময়না তদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।