ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাইমচর চরভৈরবী ওহাবিয়া এতিমখানায় জীবিতদের মৃত দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি অর্থ

নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর  হাইমচর উপজেলার চরভৈরবীর আমতলীতে ওহাবিয়া এতীম খানার নামে ভুয়া এতিমের  তালিকা তৈরি করে সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর এক গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায় মাওলানা হাফিজুর রহমান চরভৈরবীতে ওহাবিয়া এতিমখানা নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলেন।
লকডাউন এর আগে ও পরে অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হওয়া যায় এই এতিমখানায় নেই সঠিক এতিমের তথ্য। এতিমদের নামে সুকৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করার মানসে শিশুদের জীবিত পিতাকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া এতিমের তালিকা তৈরি।এই তালিকা সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দিয়ে বছরের পর বছর অর্থ লোপাট করে আসছেন মাওলানা নামধারী এই প্রতারক। আরো জানা যায় তারা প্রায় ৭০ জনের ভুয়া একটি মেয়ের তালিকা সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দেন।
সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার ফলে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৩৩ জন এতিমের জন্য মাথাপিছু মাসে ২০০০/=( দুই হাজার)  টাকা করে বরাদ্দ পান ওহাবিয়া এতিমখানা। সেই মোতাবেক তাহলে মাসে  মোট ( ৩৩×২০০০)=
৬৬০০০/=  ছেষট্টি হাজার টাকা আর বছরে  মোট  (৬৬০০০×১২)= ৭৯২০০০ টাকা,  প্রায় সরকারের ৮ লক্ষ টাকার মত লোপাট করেন ঐ জামাত নেতা । এভাবেই পেয়ে আসছেন বছরের পর বছর দেখার যেনো নেই কেউ।
৯ই ফেব্রুয়ারি বিকালে  সরেজমিন দেখা যায় ১৮ জন ছাত্রের মধ্যে মাত্র ৪ জন ছিল সঠিক এতীম বাকি সকলেরই রয়েছে বাবা-মা জীবিত। এলাকাবাসী থেকে  জানা যায় এখানকার বেশিরভাগ শিশুদেরই  বাবা-মা জীবিত। তাদের বাবা মা এসে নিয়মিত সন্তানদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কিন্তু জামায়াত নেতা সরকারের নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এ হেন ঘৃণ্য কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সবচেয় অবাকের বিষয় হল সরকারি টাকা সুকৌশলে আত্মসাৎ করলেও অফিস কক্ষে নেই জাতির জনকবঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান ও সরকার প্রধানের ছবি। অফিস কক্ষে গিয়ে সরকার প্রধানের ছবি কোথায় জানতে চাইলে  একজন চকির নিচ থেকেই বাহির করে জাতীয় পতাকা। উপস্থিত শিশুদের মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে না জাতীয় সংগীতও। এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান সন্ধ্যার পর মাদ্রাসা ও এতীম খানার ভিতরে মাদকসেবীদের আড্ডাখানা বসে।যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় লোকজন জানান হাইমচর উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশই বলে আমরা মনে করি। এসব দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে  মাওলানা হাফিজুর রহমানের বক্তব্য কি জানতে চাইলে তিনি জানান আপনারা আলগী বাজারে এসে উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য আকাশের ওয়ালটন শোরুমে বসেন। আমরা সেখানে গিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে বহু গুণে গুণান্বিত মাওলানা হাফিজুর রহমানের ভাই আকাশ বলেন আমি নিজেও একজন সাংবাদিক। আমি নবগঠিত হাইমচর উপজেলা প্রেসক্লাবের একজন নির্বাহী সদস্য ও চাঁদপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক ও বর্তমান ওনারা আমার মামা
এ বিষয়ে হাইমচর এর সাংবাদিক নেতা ফারুক হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন ব্যাপারটা আমরা ঘুর্নাক্ষরেও জানিনা। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি অন্তত এ অপরাধের সমর্থন করিনা আর সে যেই হোক।
তিনি আরো বলেন আপনারা চমৎকার একটা বিষয় উপস্থাপন করেছেন এ জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
ট্যাগস :

হাইমচর চরভৈরবী ওহাবিয়া এতিমখানায় জীবিতদের মৃত দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি অর্থ

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২২
নিজস্ব প্রতিনিধি : চাঁদপুর  হাইমচর উপজেলার চরভৈরবীর আমতলীতে ওহাবিয়া এতীম খানার নামে ভুয়া এতিমের  তালিকা তৈরি করে সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর এক গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায় মাওলানা হাফিজুর রহমান চরভৈরবীতে ওহাবিয়া এতিমখানা নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলেন।
লকডাউন এর আগে ও পরে অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হওয়া যায় এই এতিমখানায় নেই সঠিক এতিমের তথ্য। এতিমদের নামে সুকৌশলে অর্থ আত্মসাৎ করার মানসে শিশুদের জীবিত পিতাকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া এতিমের তালিকা তৈরি।এই তালিকা সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দিয়ে বছরের পর বছর অর্থ লোপাট করে আসছেন মাওলানা নামধারী এই প্রতারক। আরো জানা যায় তারা প্রায় ৭০ জনের ভুয়া একটি মেয়ের তালিকা সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দেন।
সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার ফলে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৩৩ জন এতিমের জন্য মাথাপিছু মাসে ২০০০/=( দুই হাজার)  টাকা করে বরাদ্দ পান ওহাবিয়া এতিমখানা। সেই মোতাবেক তাহলে মাসে  মোট ( ৩৩×২০০০)=
৬৬০০০/=  ছেষট্টি হাজার টাকা আর বছরে  মোট  (৬৬০০০×১২)= ৭৯২০০০ টাকা,  প্রায় সরকারের ৮ লক্ষ টাকার মত লোপাট করেন ঐ জামাত নেতা । এভাবেই পেয়ে আসছেন বছরের পর বছর দেখার যেনো নেই কেউ।
৯ই ফেব্রুয়ারি বিকালে  সরেজমিন দেখা যায় ১৮ জন ছাত্রের মধ্যে মাত্র ৪ জন ছিল সঠিক এতীম বাকি সকলেরই রয়েছে বাবা-মা জীবিত। এলাকাবাসী থেকে  জানা যায় এখানকার বেশিরভাগ শিশুদেরই  বাবা-মা জীবিত। তাদের বাবা মা এসে নিয়মিত সন্তানদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কিন্তু জামায়াত নেতা সরকারের নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এ হেন ঘৃণ্য কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সবচেয় অবাকের বিষয় হল সরকারি টাকা সুকৌশলে আত্মসাৎ করলেও অফিস কক্ষে নেই জাতির জনকবঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান ও সরকার প্রধানের ছবি। অফিস কক্ষে গিয়ে সরকার প্রধানের ছবি কোথায় জানতে চাইলে  একজন চকির নিচ থেকেই বাহির করে জাতীয় পতাকা। উপস্থিত শিশুদের মুখ দিয়ে বেরোচ্ছে না জাতীয় সংগীতও। এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান সন্ধ্যার পর মাদ্রাসা ও এতীম খানার ভিতরে মাদকসেবীদের আড্ডাখানা বসে।যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় লোকজন জানান হাইমচর উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশই বলে আমরা মনে করি। এসব দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে  মাওলানা হাফিজুর রহমানের বক্তব্য কি জানতে চাইলে তিনি জানান আপনারা আলগী বাজারে এসে উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্য আকাশের ওয়ালটন শোরুমে বসেন। আমরা সেখানে গিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে বহু গুণে গুণান্বিত মাওলানা হাফিজুর রহমানের ভাই আকাশ বলেন আমি নিজেও একজন সাংবাদিক। আমি নবগঠিত হাইমচর উপজেলা প্রেসক্লাবের একজন নির্বাহী সদস্য ও চাঁদপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক ও বর্তমান ওনারা আমার মামা
এ বিষয়ে হাইমচর এর সাংবাদিক নেতা ফারুক হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন ব্যাপারটা আমরা ঘুর্নাক্ষরেও জানিনা। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি অন্তত এ অপরাধের সমর্থন করিনা আর সে যেই হোক।
তিনি আরো বলেন আপনারা চমৎকার একটা বিষয় উপস্থাপন করেছেন এ জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।