ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

মেসার্স নাজির আহমেদ চৌধুরী বিকস্ ম্যানুফ্যাকচারস পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ইটভাটা

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলায় বেশ কয়েকটি ইটভাটা চলছে আইন অমান্য করে। ইটভাটা আইন ২০১৩ না মেনে ইটভাটা চলছে। ইটের সঠিক ওজন ও মাপ কোনটাই নেই। যেমন ভাবে মানুষ ঠকছে তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর বসত বাড়ির একেবারে কাছাাকাছি ইটভাটা স্থাপন হওয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষ। এরমধ্যে আবার সরকারি অনুমতি ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই উপজেলার কালীপুরে অবস্থিত মেসার্স নাজির আহমদে চৌধুরী ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচারস্ এর।

Model Hospital

পরিবেশ ছাত্রপত্র ও সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া কিভাবে ইটভাটা চলছে? এই প্রশ্নের জবাবে মেসার্স নাজির আহমদে চৌধুরী ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচারস্ (এনবিএম) এর দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার মো. শাহিন বলেন, আসলে আমাদের এই ইটভাটার কোন কাগজপত্র নেই। ডিসি অফিস ও প্রশাসন ম্যানেজ করেই ইটভাটা চালাচ্ছি। পরিবেশ ছাড়পত্র ও সরকারি অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করলেও এখনো পাইনি। এ ব্যাপারে মালিক জাফরিল হোসেন চৌধুরীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে মেসার্স নাজির আহমদে চৌধুরী ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচারস্-এ গিয়ে দেখা গেছে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ইটের মাপ ১০ ইঞ্চি ৫ ইঞ্চি ৩ ইঞ্চি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে মাপ অনেকটাই কম। যার ফলে মানুষ এই ইটভাটা থেকে ইট কিনে প্রতিনিয়তই ধোকা খাচ্ছে। কয়টি কোয়ালিটির ইট তৈরি করা হয় এখানে? এই প্রশ্নের সঠিক জবাবও দিতে পারেননি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ। এদিকে ভাটা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ ভাগই শিশু শ্রমিক। যাদের মধ্যে কারো বয়স ১২ বছর, কারো ১৩ বছর বা ১৪ বছর বয়সী। এই শিশু শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। শুধু কিশোর দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে তা নয়, কিশোরীও আছে এই ইটভাটায়।

কথা হয় শিশু শ্রমিক সাহিদা আক্তারের সাথে। সে বলে প্রতি সপ্তাহে ৩ হাজার সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা পায় কাজ করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন করছ এই কাজ? তখন সে বলে আমার বাবা মা এখানে কাজ করে তাই আমিও এখানে কাজ করি। বাড়িতে কেউ নেই। ১২ ও ১৩ বছর বয়সী আরো দুই ছেলে শিশু শ্রমিকের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে, পেটের দায়ে আমরা এখানে কাজ করি। সপ্তাতে ২ হাজার আবার কোন সপ্তাহে তিন হাজার টাকা পাই। মেসার্স নাজির আহমদে চৌধুরী ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচারস্-এর শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো কারণে মারাত্মকভাবে আইন লঙ্গন হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ম্যানেজার মো. শাহিন বলেন, আমরা যখন উত্তরবঙ্গ থেকে শ্রমিক আনি। তখন তাদের সাথে ছেলে মেয়েরাও চলে আসে। তাই তাদের বা মা তাদেরকে দিয়ে কাজ করায়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

২৫নং রালদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান সম্পন্ন

মেসার্স নাজির আহমেদ চৌধুরী বিকস্ ম্যানুফ্যাকচারস পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ইটভাটা

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২২

মতলব উত্তর ব্যুরো : মতলব উত্তর উপজেলায় বেশ কয়েকটি ইটভাটা চলছে আইন অমান্য করে। ইটভাটা আইন ২০১৩ না মেনে ইটভাটা চলছে। ইটের সঠিক ওজন ও মাপ কোনটাই নেই। যেমন ভাবে মানুষ ঠকছে তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর বসত বাড়ির একেবারে কাছাাকাছি ইটভাটা স্থাপন হওয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষ। এরমধ্যে আবার সরকারি অনুমতি ও পরিবেশ ছাড়পত্র নেই উপজেলার কালীপুরে অবস্থিত মেসার্স নাজির আহমদে চৌধুরী ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচারস্ এর।

Model Hospital

পরিবেশ ছাত্রপত্র ও সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া কিভাবে ইটভাটা চলছে? এই প্রশ্নের জবাবে মেসার্স নাজির আহমদে চৌধুরী ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচারস্ (এনবিএম) এর দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার মো. শাহিন বলেন, আসলে আমাদের এই ইটভাটার কোন কাগজপত্র নেই। ডিসি অফিস ও প্রশাসন ম্যানেজ করেই ইটভাটা চালাচ্ছি। পরিবেশ ছাড়পত্র ও সরকারি অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করলেও এখনো পাইনি। এ ব্যাপারে মালিক জাফরিল হোসেন চৌধুরীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে মেসার্স নাজির আহমদে চৌধুরী ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচারস্-এ গিয়ে দেখা গেছে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ইটের মাপ ১০ ইঞ্চি ৫ ইঞ্চি ৩ ইঞ্চি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে মাপ অনেকটাই কম। যার ফলে মানুষ এই ইটভাটা থেকে ইট কিনে প্রতিনিয়তই ধোকা খাচ্ছে। কয়টি কোয়ালিটির ইট তৈরি করা হয় এখানে? এই প্রশ্নের সঠিক জবাবও দিতে পারেননি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ। এদিকে ভাটা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ ভাগই শিশু শ্রমিক। যাদের মধ্যে কারো বয়স ১২ বছর, কারো ১৩ বছর বা ১৪ বছর বয়সী। এই শিশু শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। শুধু কিশোর দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে তা নয়, কিশোরীও আছে এই ইটভাটায়।

কথা হয় শিশু শ্রমিক সাহিদা আক্তারের সাথে। সে বলে প্রতি সপ্তাহে ৩ হাজার সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা পায় কাজ করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন করছ এই কাজ? তখন সে বলে আমার বাবা মা এখানে কাজ করে তাই আমিও এখানে কাজ করি। বাড়িতে কেউ নেই। ১২ ও ১৩ বছর বয়সী আরো দুই ছেলে শিশু শ্রমিকের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে, পেটের দায়ে আমরা এখানে কাজ করি। সপ্তাতে ২ হাজার আবার কোন সপ্তাহে তিন হাজার টাকা পাই। মেসার্স নাজির আহমদে চৌধুরী ব্রিকস্ ম্যানুফ্যাকচারস্-এর শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো কারণে মারাত্মকভাবে আইন লঙ্গন হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ম্যানেজার মো. শাহিন বলেন, আমরা যখন উত্তরবঙ্গ থেকে শ্রমিক আনি। তখন তাদের সাথে ছেলে মেয়েরাও চলে আসে। তাই তাদের বা মা তাদেরকে দিয়ে কাজ করায়।