ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাবার দাফন শেষে অবুঝ সাদিয়ার প্রার্থনা

সাফিউল বাসার রুজমন ♦ পিতাকে কবরে মাটি দেয়া শেষ। দাফনে উপস্থিত সকলে দু’হাত তুলে আল্লাহুপাকের দরবারে মোনাজাত করছে। খানিকটা দূরে মাদ্রাসার কোনায় ছোট্ট খুকি সাদিয়া দাঁড়িয়ে। সকলের সাথে নিজেরমত করে প্রার্থনা করছে। বাবা হারানো ব্যাথা অনুভব করার বয়স হয়নি। দীর্ঘ মেয়াদে বাবার শূন্যতা অনুভব করতে হবে সাদিয়াকে।

Model Hospital

সাদিয়ার হৃদয় বিদারক ছবিটি দেখে আমার ছোট ফুফুর কথা মনে পড়ে গেলো। ছোট ফুফু মায়ের দুধ খাওয়া অবস্থায় তাঁর মা (আমার দাদু) মারা যায়। সেই সময়ে মায়ের মৃতদেহের উপরে ফুফুটি হামাগুড়ি দেয়ার দৃশ্য উপস্থিত সকলকে কাঁদিয়েছিলেন । মায়ের মৃত্যুর পর বড় ভাবি (আমার মায়ের) লালন-পালনে বড় হয়েছেন। ভাবিকেও ফুফু মায়ের মতই ভালোবাসেন। আমরা যতটানা ভালোবাসি আমার মাকে ফুফুও ততটাই ভালোবাসে। নিজের মাকে ছাড়াই আজ ফুফু অনেক বড় হয়েছেন। নানুও হয়েছেন।

পাঁচ বোনের মধ্যে সাদিয়া সবার ছোট। সাদিয়ার হাঁটাচলা শুরু, আবদার করতে শেখা। ঠিক তখন থেকেই তার বাবা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়া। বাবার অসুস্থতা ও সাদিয়ার বেড়ে উঠা একই সাথে চলছিলো। এমন সময় আজ তার বাবাকে হারায় সাদিয়া। একদিন হয়তো সাদিয়াও বড় হবে। বাবার কথা মনে থাকবে না কিন্তু বাবার শূণ্যতা জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে অনুভব করতে হবে।

সাদিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। ক্লাসে সহপাঠীদের নতুন নতুন জামা পরতে দেখা, চকলেট, চিপস খেতে দেখে একটা সময় নিজের ইচ্ছে জাগবে। চকলেট,চিপস, নতুন নতুন জামা, সুন্দর জুতো পেতে চাইবে। হয়তো কেউ কেউ প্রথম প্রথম কিছুটা অভাব দূর করতে চাইবে। কিন্তু কিছুদিন পার হলেই সাদিয়ার অনেক অভাবই পূরনের মানুষ থাকবে না। সাদিয়ার কোন ইচ্ছেরই যেন মৃত্যু না ঘটে। মহান সৃষ্টিকর্তাই সাদিয়ার সকল ইচ্ছে পূরনের সহায় হোক।

আমাকে দেখলেই বাবা বলে ডাকতেন সাদিয়ার বাবা শ্রদ্ধেয় তাহের মিসবাহ কাকা। জীবনের শুরু থেকেই জীবন যুদ্ধে নামতে হয়েছিলো। একক প্রচেষ্টায় অভাব অনেটনের সংসারে টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ নিজেই জোগাড় করতে হতো। নিজ চেষ্টায় তিনি মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে। শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হয়। আমার পরামর্শে সাংবাদিকতা শুরু করে। আমার পত্রিকার (মানবসমাজ) নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে লেখালেখি চালিয়ে যায়। সাংবাদিকতা জীবনে তাঁর লেখায় কাউকে কোন দিন কষ্ট পেতে হয়নি। তিনি কোন দিন অন্যায় ভাবে কারো কাছ থেকে অর্থ নেননি। সৎ ভাবে সীমিত পরিসরের জীবনের সমাপ্তি ঘটে তাঁর।

আমাকে দেখলেই বাবা বলে ডাকতেন। শেষ একটি বছর ব্যস্ততার কারনে প্রতিনিয়ত কথা হয়নি। শুক্রবার জুমার নামাজ বাড়ির মসজিদে আদায় করতাম। শুক্রবার কাকার সাথে কথা হতো। সর্বশেষ মাহবুবুল আলম চুননু ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ওনাকে খুব কষ্ট দেয়। আমার কাছে খুবই মর্মাহত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। সাপ্তাহ খানেকের মাথায় চলে গেলো তাহের মিসবাহ কাকা। নিকটতমদের হারানো তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। চুননু ভাইয়ের শোক সইতে না সইতেই হারুনুর রশিদ মুন্সী ভাই চলে গেলেন, জাকির হোসেন লিটন ভাই ও সর্বশেষ তাহের মিসবাহ কাকা। কাকার সাথে স্মৃতি গুলো সব সময় মনে থাকবে। আল্লাহুপাক প্রিয় তাহের মিসবাহ কাকাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুক, আমীন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে লঞ্চে শুরু হয়েছে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা

বাবার দাফন শেষে অবুঝ সাদিয়ার প্রার্থনা

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী ২০২২

সাফিউল বাসার রুজমন ♦ পিতাকে কবরে মাটি দেয়া শেষ। দাফনে উপস্থিত সকলে দু’হাত তুলে আল্লাহুপাকের দরবারে মোনাজাত করছে। খানিকটা দূরে মাদ্রাসার কোনায় ছোট্ট খুকি সাদিয়া দাঁড়িয়ে। সকলের সাথে নিজেরমত করে প্রার্থনা করছে। বাবা হারানো ব্যাথা অনুভব করার বয়স হয়নি। দীর্ঘ মেয়াদে বাবার শূন্যতা অনুভব করতে হবে সাদিয়াকে।

Model Hospital

সাদিয়ার হৃদয় বিদারক ছবিটি দেখে আমার ছোট ফুফুর কথা মনে পড়ে গেলো। ছোট ফুফু মায়ের দুধ খাওয়া অবস্থায় তাঁর মা (আমার দাদু) মারা যায়। সেই সময়ে মায়ের মৃতদেহের উপরে ফুফুটি হামাগুড়ি দেয়ার দৃশ্য উপস্থিত সকলকে কাঁদিয়েছিলেন । মায়ের মৃত্যুর পর বড় ভাবি (আমার মায়ের) লালন-পালনে বড় হয়েছেন। ভাবিকেও ফুফু মায়ের মতই ভালোবাসেন। আমরা যতটানা ভালোবাসি আমার মাকে ফুফুও ততটাই ভালোবাসে। নিজের মাকে ছাড়াই আজ ফুফু অনেক বড় হয়েছেন। নানুও হয়েছেন।

পাঁচ বোনের মধ্যে সাদিয়া সবার ছোট। সাদিয়ার হাঁটাচলা শুরু, আবদার করতে শেখা। ঠিক তখন থেকেই তার বাবা ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়া। বাবার অসুস্থতা ও সাদিয়ার বেড়ে উঠা একই সাথে চলছিলো। এমন সময় আজ তার বাবাকে হারায় সাদিয়া। একদিন হয়তো সাদিয়াও বড় হবে। বাবার কথা মনে থাকবে না কিন্তু বাবার শূণ্যতা জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে অনুভব করতে হবে।

সাদিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। ক্লাসে সহপাঠীদের নতুন নতুন জামা পরতে দেখা, চকলেট, চিপস খেতে দেখে একটা সময় নিজের ইচ্ছে জাগবে। চকলেট,চিপস, নতুন নতুন জামা, সুন্দর জুতো পেতে চাইবে। হয়তো কেউ কেউ প্রথম প্রথম কিছুটা অভাব দূর করতে চাইবে। কিন্তু কিছুদিন পার হলেই সাদিয়ার অনেক অভাবই পূরনের মানুষ থাকবে না। সাদিয়ার কোন ইচ্ছেরই যেন মৃত্যু না ঘটে। মহান সৃষ্টিকর্তাই সাদিয়ার সকল ইচ্ছে পূরনের সহায় হোক।

আমাকে দেখলেই বাবা বলে ডাকতেন সাদিয়ার বাবা শ্রদ্ধেয় তাহের মিসবাহ কাকা। জীবনের শুরু থেকেই জীবন যুদ্ধে নামতে হয়েছিলো। একক প্রচেষ্টায় অভাব অনেটনের সংসারে টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ নিজেই জোগাড় করতে হতো। নিজ চেষ্টায় তিনি মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করে। শিক্ষকতা পেশায় নিযুক্ত হয়। আমার পরামর্শে সাংবাদিকতা শুরু করে। আমার পত্রিকার (মানবসমাজ) নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে লেখালেখি চালিয়ে যায়। সাংবাদিকতা জীবনে তাঁর লেখায় কাউকে কোন দিন কষ্ট পেতে হয়নি। তিনি কোন দিন অন্যায় ভাবে কারো কাছ থেকে অর্থ নেননি। সৎ ভাবে সীমিত পরিসরের জীবনের সমাপ্তি ঘটে তাঁর।

আমাকে দেখলেই বাবা বলে ডাকতেন। শেষ একটি বছর ব্যস্ততার কারনে প্রতিনিয়ত কথা হয়নি। শুক্রবার জুমার নামাজ বাড়ির মসজিদে আদায় করতাম। শুক্রবার কাকার সাথে কথা হতো। সর্বশেষ মাহবুবুল আলম চুননু ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ওনাকে খুব কষ্ট দেয়। আমার কাছে খুবই মর্মাহত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। সাপ্তাহ খানেকের মাথায় চলে গেলো তাহের মিসবাহ কাকা। নিকটতমদের হারানো তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। চুননু ভাইয়ের শোক সইতে না সইতেই হারুনুর রশিদ মুন্সী ভাই চলে গেলেন, জাকির হোসেন লিটন ভাই ও সর্বশেষ তাহের মিসবাহ কাকা। কাকার সাথে স্মৃতি গুলো সব সময় মনে থাকবে। আল্লাহুপাক প্রিয় তাহের মিসবাহ কাকাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুক, আমীন।