ঢাকা ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আজ ঐতিহ্যবাহী সাচার রথযাত্রা উৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব আজ। স্নানযাত্রা মধ্য দিয়ে এ উৎসব শুরু হয়। এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব সাচার জগন্নাথ ধামের রথযাত্রা। পঞ্জিকা অনুযায়ী আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ বছর সাচার জগন্নাথ ধাম সাংস্কৃতিক সংঘের আয়োজনে ১৫৭ তম জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব হচ্ছে। প্রাচীন এ রথযাত্রা ঘিরে উৎসব এবং উম্মোদনায় মেতে ওঠেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দরা । আগামী ১৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রা মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই রথযাত্রার উৎসব।

Model Hospital

মন্দির উদযাপন কমিটির কর্তৃপক্ষরা জানান, রথযাত্রা উৎসবে শামিল হবেন কচুয়ার তথা দেশ বিদেশের হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দ। সাচার জগন্নাথ ধামের রথযাত্রা উৎসবের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। ১০ দিন ধরে চলবে এ উৎসব। এবারে মহাসমারোহে রথযাত্রায় লক্ষাধিক ভক্ত সমাবেশ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এ রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষ্যে সাচার জগন্নাথ ধাম মন্দির কমিটি ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহন করেছেন।

রবিবার ভোর ৬টায়, মঙ্গলআরতি, সকাল সাড়ে ৭টায় ও গুরু পূজা, সকাল ৮টায় চৈতন্যচরিতামৃত পাঠ, সকাল ৯টায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, দুপুর ১২টায় ভোগা আরতি, দুপুর ২টায় ভজন কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণ, বিকাল ৫টায় জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গন থেকে রথ টেনে পূর্ব বাজারে আনা হবে। সন্ধ্যায় ৭টায় আরতি কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন,জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ। জগত হচ্ছে বিশ^,নাথ হচ্ছেন ঈশ^র। জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের ঈশ^র। ঈশ^রের অনুগ্রহ পেলে মুক্তি লাভ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই রথের উপর জগন্নাথ দেবের কাঠের প্রতিমা রেখে রথ টানেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

জগন্নাধ ধাম পূজা ও সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি বটু কৃষ্ণ বসু , সিনিয়র সহ-সভাপতি নিখিল দাস ও সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব সাহা, অর্থ সম্পাদক গনেশ ধর জানান, এই বৎসর রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে দেশ বিদেশের জগন্নাথ দেবের লক্ষাধিক ভক্তবৃন্দের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছি। তাই এই বিশাল ভীড়কে শৃঙ্খলার মাঝে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশিপাশি আমাদের মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে শতাধিক ভলেন্টিয়ার থাকবে। এছাড়া আগত ভক্তবৃন্দের জন্য পানি এবং প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রথ উদযাপন কমিটির সভাপতি শুকদেব গোস্বামী, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গোপ ও অর্থ সম্পাদক রনজিৎ সাহা জানান, জমিদার গঙ্গা গোবিন্দ সেনের হাত ধরেই আমরা এই জগন্নাথ ধামের রথ যাত্রা উৎসব পালন করে আসছি। সাচার জগন্নাথ ধাম ও সাংস্কৃতিক সংঘের আয়োজন এ বৎসর ১৫৭ তম রথযাত্রা উৎসব পালন করবো। আর এই উৎসবকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। উৎসবে লক্ষাধিক ভক্তবৃন্দদের সমাগমে জগন্নাথ ধাম মন্দির প্রাঙ্গনে উৎসবে আমেজ বিরাজ করবে। ১৪ই জুলাই উল্টো রথযাত্রা মধ্য দিয়ে উৎসবের সমপ্তি ঘটবে। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে রথযাত্রার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কথিত আছে যে, প্রায় দেড়শত বছর পূর্বে সাচার বাবু বাড়ির জমিদার গঙ্গা গোবিন্দ সেন ভারতে হিন্দু তীর্থস্থান পুরীতে জগন্নাথ দর্শনে গেলে, জগন্নাথ গঙ্গা গোবিন্দকে দর্শন দেননি। বরং পুরীর দরজা-জানালাগুলো আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায়। দর্শন লাভে ব্যর্থ হয়ে পরম ধার্মিক গঙ্গা গোবিন্দ সেন দর্শন লাভের আশায় পুরীর বাহিরে আমরন-অনশন শুরু করে দেয়। অনশনের কয়েকদিন অতিবাহিত হলে গঙ্গা গোবিন্দ সেন স্বপ্নাদৃষ্ট হন যে, এ স্থানে জগন্নাথ গঙ্গা গোবিন্দ সেনকে দর্শন না দিয়ে তার সাচারের বাড়ির সম্মুখের দীঘিতে ভাসমান নিম কাঠ আকৃতিতে দর্শন দিবেন। স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে গঙ্গা গোবিন্দ সেন নিজ বাড়ি ফিরে আসেন এবং ক’দিন পর উক্ত দীঘিতে স্নান করার সময় আকস্মিক ভাবে ভাসমান নিম কাঠ আকৃতিতে জগন্নাথ দর্শন লাভ করেন।

ট্যাগস :

শাহরাস্তিতে মাদক মামলায় যুবক আটক

আজ ঐতিহ্যবাহী সাচার রথযাত্রা উৎসব

আপডেট সময় : ১০:৩১:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব আজ। স্নানযাত্রা মধ্য দিয়ে এ উৎসব শুরু হয়। এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব সাচার জগন্নাথ ধামের রথযাত্রা। পঞ্জিকা অনুযায়ী আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ বছর সাচার জগন্নাথ ধাম সাংস্কৃতিক সংঘের আয়োজনে ১৫৭ তম জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব হচ্ছে। প্রাচীন এ রথযাত্রা ঘিরে উৎসব এবং উম্মোদনায় মেতে ওঠেন হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দরা । আগামী ১৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রা মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই রথযাত্রার উৎসব।

Model Hospital

মন্দির উদযাপন কমিটির কর্তৃপক্ষরা জানান, রথযাত্রা উৎসবে শামিল হবেন কচুয়ার তথা দেশ বিদেশের হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দ। সাচার জগন্নাথ ধামের রথযাত্রা উৎসবের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। ১০ দিন ধরে চলবে এ উৎসব। এবারে মহাসমারোহে রথযাত্রায় লক্ষাধিক ভক্ত সমাবেশ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এ রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষ্যে সাচার জগন্নাথ ধাম মন্দির কমিটি ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহন করেছেন।

রবিবার ভোর ৬টায়, মঙ্গলআরতি, সকাল সাড়ে ৭টায় ও গুরু পূজা, সকাল ৮টায় চৈতন্যচরিতামৃত পাঠ, সকাল ৯টায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, দুপুর ১২টায় ভোগা আরতি, দুপুর ২টায় ভজন কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণ, বিকাল ৫টায় জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গন থেকে রথ টেনে পূর্ব বাজারে আনা হবে। সন্ধ্যায় ৭টায় আরতি কীর্তন অনুষ্ঠিত হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন,জগন্নাথ দেব হলেন জগতের নাথ। জগত হচ্ছে বিশ^,নাথ হচ্ছেন ঈশ^র। জগন্নাথ হচ্ছেন জগতের ঈশ^র। ঈশ^রের অনুগ্রহ পেলে মুক্তি লাভ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই রথের উপর জগন্নাথ দেবের কাঠের প্রতিমা রেখে রথ টানেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

জগন্নাধ ধাম পূজা ও সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি বটু কৃষ্ণ বসু , সিনিয়র সহ-সভাপতি নিখিল দাস ও সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব সাহা, অর্থ সম্পাদক গনেশ ধর জানান, এই বৎসর রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে দেশ বিদেশের জগন্নাথ দেবের লক্ষাধিক ভক্তবৃন্দের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছি। তাই এই বিশাল ভীড়কে শৃঙ্খলার মাঝে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশিপাশি আমাদের মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে শতাধিক ভলেন্টিয়ার থাকবে। এছাড়া আগত ভক্তবৃন্দের জন্য পানি এবং প্রসাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

রথ উদযাপন কমিটির সভাপতি শুকদেব গোস্বামী, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার গোপ ও অর্থ সম্পাদক রনজিৎ সাহা জানান, জমিদার গঙ্গা গোবিন্দ সেনের হাত ধরেই আমরা এই জগন্নাথ ধামের রথ যাত্রা উৎসব পালন করে আসছি। সাচার জগন্নাথ ধাম ও সাংস্কৃতিক সংঘের আয়োজন এ বৎসর ১৫৭ তম রথযাত্রা উৎসব পালন করবো। আর এই উৎসবকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। উৎসবে লক্ষাধিক ভক্তবৃন্দদের সমাগমে জগন্নাথ ধাম মন্দির প্রাঙ্গনে উৎসবে আমেজ বিরাজ করবে। ১৪ই জুলাই উল্টো রথযাত্রা মধ্য দিয়ে উৎসবের সমপ্তি ঘটবে। পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের মন্দির কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে রথযাত্রার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কথিত আছে যে, প্রায় দেড়শত বছর পূর্বে সাচার বাবু বাড়ির জমিদার গঙ্গা গোবিন্দ সেন ভারতে হিন্দু তীর্থস্থান পুরীতে জগন্নাথ দর্শনে গেলে, জগন্নাথ গঙ্গা গোবিন্দকে দর্শন দেননি। বরং পুরীর দরজা-জানালাগুলো আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায়। দর্শন লাভে ব্যর্থ হয়ে পরম ধার্মিক গঙ্গা গোবিন্দ সেন দর্শন লাভের আশায় পুরীর বাহিরে আমরন-অনশন শুরু করে দেয়। অনশনের কয়েকদিন অতিবাহিত হলে গঙ্গা গোবিন্দ সেন স্বপ্নাদৃষ্ট হন যে, এ স্থানে জগন্নাথ গঙ্গা গোবিন্দ সেনকে দর্শন না দিয়ে তার সাচারের বাড়ির সম্মুখের দীঘিতে ভাসমান নিম কাঠ আকৃতিতে দর্শন দিবেন। স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে গঙ্গা গোবিন্দ সেন নিজ বাড়ি ফিরে আসেন এবং ক’দিন পর উক্ত দীঘিতে স্নান করার সময় আকস্মিক ভাবে ভাসমান নিম কাঠ আকৃতিতে জগন্নাথ দর্শন লাভ করেন।