ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে প্রবাসীর বসতঘর নির্মাণে প্রতিবেশীর বাঁধা প্রয়োগের অভিযোগ

চাঁদপুর সদরে খরিদা সূত্রে সম্পত্তিতে প্রবাসীর বসতঘর নির্মাণে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের বাঁধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সু দৃষ্টি কামনা করেন।
জানা যায়, উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মান্দারী এলাকার মৃত আব্দুল বারেক এর ছেলে সৌদি প্রবাসী নজরুল ইসলাম (সফিক) তার বসতঘর নির্মাণে বাঁধা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মৃত আবিদ তালুকদারের ছেলে মোঃ আক্কাছ তালুকদার গং দের বিরুদ্ধে।
নজরুল ইসলাম (সফিক) অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার খরিদকৃত সম্পত্তিতে প্রায় ৪০ বছর যাবত বসবাস করে আসতেছি।
আমি বিদেশ থেকে ছুটিতে এসে আমার বসত ভিটায় ঘর নির্মাণ করতে গেলে প্রতিবেশী মৃত আবিদ তালুকদারের ছেলে মোঃ আক্কাছ তালুকদার ও তার ভাই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ইব্রাহিম তালুকদার সহ অন্যান্য ভাইয়েরা তাদের ওয়ারিশ সূত্র সম্পত্তি দাবী করে বাঁধা প্রয়োগ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বাবা ১৯৭৭ সালের দিকে মৃত আলি তালুকদারের ছেলে মৃত খলিলুর রহমান তালুকদারের কাছ থেকে সিএস খতিয়ানে ৪৯নং মান্দারী মৌজার ১৮১ নং খতিয়ানে ৬১২, ৬১৩, ৬১৪, ৬১৫, ৬১৬ নং দাগে ১২ শতাংশ ও ৬০৭ নং দাগে সাড়ে দেড় শতাংশ সহ সর্বমোট সাড়ে ১৩ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন। সেই সম্পত্তিতে বসতঘর নির্মাণ করতে গেলে গত মে মাসের ২৩ তারিখে তারা আমাদের বিরুদ্ধে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দায়ের করে কাজ বন্ধ করে দেন এবং পরদিন বিভিন্ন দাগে ক্রয়কৃত ১২ শতাংশ সম্পত্তির বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে রাখেন।
এ নিয়ে দুইবার সালিশি বৈঠকে বসলে তারা প্রভাব খাটিয়ে চলে যায়।
তিনি আরো বলেন, ঘর করার উদ্দেশ্যে সকল মালামাল এনে এখন এগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম। আমার ছুটিও প্রায় শেষ হয়ে আসছে। কোন উপায় পাচ্ছি না। ১৮১ নং খতিয়ানে যদি অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে তারা উক্ত খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কথা। শুধুমাত্র আমাদের বিরুদ্ধে একতরফা অভিযোগ করার কোন মানে হয়না। আমি এর একটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সমাধান আশা করছি।
তিনি বলেন, আমাদের বসতভিটার সম্পত্তি ক্রয় করেছি খলিলুর রহমানের নিজ থেকে এবং আবদ্ধ দেয়া দুটি দাগে ১৫ শতাংশ সম্পত্তি সিএস খতিয়ানে ১৯৮৭ সালে খলিলুর রহমানের কাছ থেকে ক্রয় করেন একই এলাকার মৃত আব্দুর রশিদ খানের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুছ ছালাম খান। পরবর্তীতে বিএস খতিয়ানে আব্দুছ ছালাম খানের কাছ থেকে আমার বাবা ক্রয় করেন। সেই সম্পত্তিতেই আজ এই বাঁধার সমূখীন।
সম্পত্তির বাঁধা প্রয়োগকারীদের একজন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইব্রাহিম তালুকদারের সাথে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করলে ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে চলেন। ইউপি চেয়ারম্যান এর প্রতিনিধি ইউপি সদস্য কবির হোসেন রনি বলেন, সম্পত্তিগত সমস্যাটি নিয়ে দুইবার বসা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে একপক্ষের প্রভাবের কারনে এবং কাগজপত্র উপস্থাপনের অনুরোধে বিষয়টি এখনো মিমাংসা করা সম্ভব হয়নি।
তারপরও অভিযোগটির সুষ্ঠু সমাধানে আগামী শনিবার পূণরায় বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ট্যাগস :

শাহরাস্তিতে মাদক মামলায় যুবক আটক

চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুরে প্রবাসীর বসতঘর নির্মাণে প্রতিবেশীর বাঁধা প্রয়োগের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪
চাঁদপুর সদরে খরিদা সূত্রে সম্পত্তিতে প্রবাসীর বসতঘর নির্মাণে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের বাঁধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সু দৃষ্টি কামনা করেন।
জানা যায়, উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মান্দারী এলাকার মৃত আব্দুল বারেক এর ছেলে সৌদি প্রবাসী নজরুল ইসলাম (সফিক) তার বসতঘর নির্মাণে বাঁধা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মৃত আবিদ তালুকদারের ছেলে মোঃ আক্কাছ তালুকদার গং দের বিরুদ্ধে।
নজরুল ইসলাম (সফিক) অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার খরিদকৃত সম্পত্তিতে প্রায় ৪০ বছর যাবত বসবাস করে আসতেছি।
আমি বিদেশ থেকে ছুটিতে এসে আমার বসত ভিটায় ঘর নির্মাণ করতে গেলে প্রতিবেশী মৃত আবিদ তালুকদারের ছেলে মোঃ আক্কাছ তালুকদার ও তার ভাই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ইব্রাহিম তালুকদার সহ অন্যান্য ভাইয়েরা তাদের ওয়ারিশ সূত্র সম্পত্তি দাবী করে বাঁধা প্রয়োগ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বাবা ১৯৭৭ সালের দিকে মৃত আলি তালুকদারের ছেলে মৃত খলিলুর রহমান তালুকদারের কাছ থেকে সিএস খতিয়ানে ৪৯নং মান্দারী মৌজার ১৮১ নং খতিয়ানে ৬১২, ৬১৩, ৬১৪, ৬১৫, ৬১৬ নং দাগে ১২ শতাংশ ও ৬০৭ নং দাগে সাড়ে দেড় শতাংশ সহ সর্বমোট সাড়ে ১৩ শতাংশ সম্পত্তি ক্রয় করেন। সেই সম্পত্তিতে বসতঘর নির্মাণ করতে গেলে গত মে মাসের ২৩ তারিখে তারা আমাদের বিরুদ্ধে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দায়ের করে কাজ বন্ধ করে দেন এবং পরদিন বিভিন্ন দাগে ক্রয়কৃত ১২ শতাংশ সম্পত্তির বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে রাখেন।
এ নিয়ে দুইবার সালিশি বৈঠকে বসলে তারা প্রভাব খাটিয়ে চলে যায়।
তিনি আরো বলেন, ঘর করার উদ্দেশ্যে সকল মালামাল এনে এখন এগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম। আমার ছুটিও প্রায় শেষ হয়ে আসছে। কোন উপায় পাচ্ছি না। ১৮১ নং খতিয়ানে যদি অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে তারা উক্ত খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কথা। শুধুমাত্র আমাদের বিরুদ্ধে একতরফা অভিযোগ করার কোন মানে হয়না। আমি এর একটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সমাধান আশা করছি।
তিনি বলেন, আমাদের বসতভিটার সম্পত্তি ক্রয় করেছি খলিলুর রহমানের নিজ থেকে এবং আবদ্ধ দেয়া দুটি দাগে ১৫ শতাংশ সম্পত্তি সিএস খতিয়ানে ১৯৮৭ সালে খলিলুর রহমানের কাছ থেকে ক্রয় করেন একই এলাকার মৃত আব্দুর রশিদ খানের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুছ ছালাম খান। পরবর্তীতে বিএস খতিয়ানে আব্দুছ ছালাম খানের কাছ থেকে আমার বাবা ক্রয় করেন। সেই সম্পত্তিতেই আজ এই বাঁধার সমূখীন।
সম্পত্তির বাঁধা প্রয়োগকারীদের একজন শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইব্রাহিম তালুকদারের সাথে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করলে ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে চলেন। ইউপি চেয়ারম্যান এর প্রতিনিধি ইউপি সদস্য কবির হোসেন রনি বলেন, সম্পত্তিগত সমস্যাটি নিয়ে দুইবার বসা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে একপক্ষের প্রভাবের কারনে এবং কাগজপত্র উপস্থাপনের অনুরোধে বিষয়টি এখনো মিমাংসা করা সম্ভব হয়নি।
তারপরও অভিযোগটির সুষ্ঠু সমাধানে আগামী শনিবার পূণরায় বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে।