ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুর সদরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেনীকক্ষ ও শিক্ষক সংকটে ব্যাহত শিক্ষাদান

মাসুদ হোসেন : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মোট জনসংখ্যার শত ভাগ প্রাইমারি শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করলেও সেদিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। এ উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদসহ প্রায় অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। সেই সাথে কয়েকটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেনীকক্ষ ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী না থাকায় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলায় ১৭২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ বিদ্যালয়েই দীর্ঘদিন ধরে ২৯ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকটে স্কুলে লেখাপড়ার মান ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ২৯টি শৃষ্ট পদে ২২ জন যোগদান করেছে। এদিকে সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক সংকটে পাঠদান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। ছুটি কিংবা অবসরজনিত কারনে এ সংকট রয়েছে বলে জানা যায়। সেই সাথে কয়েকটি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী না থাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। অনেক ব্যস্ততম সড়কের পাশে বিদ্যালয়ের অবস্থান হওয়ায় স্কুল ছুটির পর শিশুরা যে যার মত রাস্ত পারাপার হচ্ছে। এমনকি অনেক বিদ্যালয়ের পুকুর থাকায়ও শিশুদের নিরাপত্তা অনিশ্চিত। শূন্য থাকা এসব বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী না থাকায় এসব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুঃচিন্তায় থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ২৯ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ খালি থাকায় সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর কোনো শিক্ষক যখন অসুস্থ হন কিংবা মাতৃত্বকালীন বা অন্য কোনো কারণে ছুটিতে থাকেন তখন দায়িত্বরতদের পাঠদানে হিমশিম খেতে হয়। এ অবস্থায় একজন শিক্ষককে একটানা চার-পাঁচটি ক্লাসে পাঠদান করতে হয়। কখনো কোনো একটি শ্রেণির পাঠদান বন্ধ থাকে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাই এই বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অবসরজনিত কারণ, মৃত্যু ও অনেকদিন থেকে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শূন্য পদের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সহসাই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের একটি সার্কুলার হওয়ার কথা রয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ উপজেলায় কিছু পদ পূর্ণ হবে। আর পদোন্নতি হলে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ কিছুটা কমে যাবে। আশা করি, দ্রুত এর সমাধান হবে। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো তিন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। ১৯৭৩ সালে, ১৯৮৬ সালে ও সর্বশেষ ২০১৩ সালে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগের সুযোগ এখনো আসেনি। এ উপজেলায় বর্তমানে ১৫-২০টি বিদ্যালয় ছাড়া ১১৫ টি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগপ্রাপ্ত।
ট্যাগস :

চাঁদপুর সদরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেনীকক্ষ ও শিক্ষক সংকটে ব্যাহত শিক্ষাদান

আপডেট সময় : ০৪:১৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
মাসুদ হোসেন : প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মোট জনসংখ্যার শত ভাগ প্রাইমারি শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করলেও সেদিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। এ উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদসহ প্রায় অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন। সেই সাথে কয়েকটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেনীকক্ষ ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী না থাকায় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলায় ১৭২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ বিদ্যালয়েই দীর্ঘদিন ধরে ২৯ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকটে স্কুলে লেখাপড়ার মান ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ২৯টি শৃষ্ট পদে ২২ জন যোগদান করেছে। এদিকে সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষক সংকটে পাঠদান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। ছুটি কিংবা অবসরজনিত কারনে এ সংকট রয়েছে বলে জানা যায়। সেই সাথে কয়েকটি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী না থাকায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। অনেক ব্যস্ততম সড়কের পাশে বিদ্যালয়ের অবস্থান হওয়ায় স্কুল ছুটির পর শিশুরা যে যার মত রাস্ত পারাপার হচ্ছে। এমনকি অনেক বিদ্যালয়ের পুকুর থাকায়ও শিশুদের নিরাপত্তা অনিশ্চিত। শূন্য থাকা এসব বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী না থাকায় এসব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুঃচিন্তায় থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ২৯ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ খালি থাকায় সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর কোনো শিক্ষক যখন অসুস্থ হন কিংবা মাতৃত্বকালীন বা অন্য কোনো কারণে ছুটিতে থাকেন তখন দায়িত্বরতদের পাঠদানে হিমশিম খেতে হয়। এ অবস্থায় একজন শিক্ষককে একটানা চার-পাঁচটি ক্লাসে পাঠদান করতে হয়। কখনো কোনো একটি শ্রেণির পাঠদান বন্ধ থাকে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাই এই বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অবসরজনিত কারণ, মৃত্যু ও অনেকদিন থেকে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শূন্য পদের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সহসাই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের একটি সার্কুলার হওয়ার কথা রয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এ উপজেলায় কিছু পদ পূর্ণ হবে। আর পদোন্নতি হলে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ কিছুটা কমে যাবে। আশা করি, দ্রুত এর সমাধান হবে। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো তিন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। ১৯৭৩ সালে, ১৯৮৬ সালে ও সর্বশেষ ২০১৩ সালে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী নিয়োগের সুযোগ এখনো আসেনি। এ উপজেলায় বর্তমানে ১৫-২০টি বিদ্যালয় ছাড়া ১১৫ টি বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগপ্রাপ্ত।