ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে ভগ্নিপতির রোষানলে শালা-শালী

নিজস্ব প্রতিনিধি : হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের ফুলছোঁয়া গ্রামের গনগাজী বাড়ির মৃত আব্দুর রশিদ গাজির ছেলে কুয়েত প্রবাসী হানিফ গাজী দীর্ঘদিন কুয়েতে থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বুঝেনা। তার সেই সুযোগে একই বাড়ির মৃত মো. মনু মিয়ার ছেলে ভগ্নিপতি মুছা গাজী তার দুর্বলতা ও সরলতা সুযোগ নিয়ে তার কাছ থেকে টাকা ধার নেয় এবং জায়গা রেজিস্ট্রি করে দিবে বলে বিভিন্ন সময় কালক্ষেপণ করে।
একপর্যায় তাদের শালা ভগ্নিপতির উভয়ের মধ্যে কথা হয় যে ভগ্নিপতি মুছা গাজীদের জায়গা হানিফ গাজীর কাছে বিক্রি করবে। শালা ভগ্নিপতির উভয়ের এ যৌথ দলিলের জায়গা। ভগ্নিপতি মুসা গাজী তার ওয়াইফের ভাইয়ের কাছে বিক্রি না করে অন্যথায় বিক্রি করে দেয়। এ কারণে তাদের উভয়ের পরিবারের মাঝে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় ভগ্নিপতি মুসা গাজীর ধারের টাকা ফেরত দেবে না বলে অন্যথায় জায়গা বিক্রি করে দেয়।
শালা হানিফ গাজী বলেন, বিভিন্ন সময় ভগ্নিপতি মুছা গাজী ৫০ হাজার ৭০ হাজার ১ লক্ষ এভাবে একের পর এক কয়েকদাগে আমার স্ত্রী ও মায়ের কাছ থেকে টাকাগুলো নিয়ে আজ বিভিন্ন পায়তারা করে। আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জায়গা অন্যথায় বিক্রি করে এলাকায় দাঙ্গা হাঙ্গার সৃষ্টি করে। বোন বিয়ে দিয়ে বড় বিপদে আছি। পারিনা সইতে, পারিনা কইতে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন তাদের বিচার করেন। আমরা ভগ্নিপতির রোষানলে পড়ে আজ দিশেহারা।
জানা যায়, শালা হানিফ গাজী নিরুপায় হয়ে রবিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ভগ্নিপতি মোহাম্মদ মুসা গাজী, খালাম্মা লাইলুন নাহার, ইব্রাহিম গাজী, মোহাম্মদ ইসহাক গাজী, মোহাম্মদ মাহফুজ গাজী ও মৃত সিদ্দিকুর রহমান এর ছেলে মমিনুল হক, নুরজাহান বেগম এর নামে ২নং বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বরাবর উপরোক্ত বিষয়টি মীমাংসা ও অভিযুক্ত ভূমির খারিজ স্থগিত রাখার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন।
হাজীগঞ্জ থানায় মুসা গাজী গং শালা হানিফ গাজী গং এর বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের আলোকে হাজিগঞ্জ থানার এসআই নাজিম উদ্দিন গত শুক্রবার ১০ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষকে আপস মীমাংসার লক্ষ্যে ডাকলেও কোন মীমাংসা ছাড়াই মুসা গাজীরা জোরপূর্বক ওই ভূমির মাটির কাজ করে। এতে করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও থানা পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাজ চালিয়ে যায়। মুসা গাজী ঢাকা থাকেন, তার সাথে বিভিন্নভাবে মোবাইলে চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সোমবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২নং বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিলন বলেন, আমি হানিফ গাজী এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গ্রাম্য আদালতের সময় আগামী বুধবার নির্ধারণ করে গ্রাম পুলিশ দিয়ে নোটিশ পাঠিয়েছি। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বলেন, হানিফ গাজী এই ভূমির খারিজ না দেওয়ার বিষয়টি আবেদন করেছেন। হাজীগঞ্জ থানার এসআই নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি বিষয়টি মীমাংসার জন্য চেষ্টা করেছি। তবে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি।
ট্যাগস :

হাজীগঞ্জে ভগ্নিপতির রোষানলে শালা-শালী

আপডেট সময় : ০৪:০৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
নিজস্ব প্রতিনিধি : হাজীগঞ্জ উপজেলার ২নং বাকিলা ইউনিয়নের ফুলছোঁয়া গ্রামের গনগাজী বাড়ির মৃত আব্দুর রশিদ গাজির ছেলে কুয়েত প্রবাসী হানিফ গাজী দীর্ঘদিন কুয়েতে থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বুঝেনা। তার সেই সুযোগে একই বাড়ির মৃত মো. মনু মিয়ার ছেলে ভগ্নিপতি মুছা গাজী তার দুর্বলতা ও সরলতা সুযোগ নিয়ে তার কাছ থেকে টাকা ধার নেয় এবং জায়গা রেজিস্ট্রি করে দিবে বলে বিভিন্ন সময় কালক্ষেপণ করে।
একপর্যায় তাদের শালা ভগ্নিপতির উভয়ের মধ্যে কথা হয় যে ভগ্নিপতি মুছা গাজীদের জায়গা হানিফ গাজীর কাছে বিক্রি করবে। শালা ভগ্নিপতির উভয়ের এ যৌথ দলিলের জায়গা। ভগ্নিপতি মুসা গাজী তার ওয়াইফের ভাইয়ের কাছে বিক্রি না করে অন্যথায় বিক্রি করে দেয়। এ কারণে তাদের উভয়ের পরিবারের মাঝে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় ভগ্নিপতি মুসা গাজীর ধারের টাকা ফেরত দেবে না বলে অন্যথায় জায়গা বিক্রি করে দেয়।
শালা হানিফ গাজী বলেন, বিভিন্ন সময় ভগ্নিপতি মুছা গাজী ৫০ হাজার ৭০ হাজার ১ লক্ষ এভাবে একের পর এক কয়েকদাগে আমার স্ত্রী ও মায়ের কাছ থেকে টাকাগুলো নিয়ে আজ বিভিন্ন পায়তারা করে। আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জায়গা অন্যথায় বিক্রি করে এলাকায় দাঙ্গা হাঙ্গার সৃষ্টি করে। বোন বিয়ে দিয়ে বড় বিপদে আছি। পারিনা সইতে, পারিনা কইতে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন তাদের বিচার করেন। আমরা ভগ্নিপতির রোষানলে পড়ে আজ দিশেহারা।
জানা যায়, শালা হানিফ গাজী নিরুপায় হয়ে রবিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ভগ্নিপতি মোহাম্মদ মুসা গাজী, খালাম্মা লাইলুন নাহার, ইব্রাহিম গাজী, মোহাম্মদ ইসহাক গাজী, মোহাম্মদ মাহফুজ গাজী ও মৃত সিদ্দিকুর রহমান এর ছেলে মমিনুল হক, নুরজাহান বেগম এর নামে ২নং বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বরাবর উপরোক্ত বিষয়টি মীমাংসা ও অভিযুক্ত ভূমির খারিজ স্থগিত রাখার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন।
হাজীগঞ্জ থানায় মুসা গাজী গং শালা হানিফ গাজী গং এর বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের আলোকে হাজিগঞ্জ থানার এসআই নাজিম উদ্দিন গত শুক্রবার ১০ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষকে আপস মীমাংসার লক্ষ্যে ডাকলেও কোন মীমাংসা ছাড়াই মুসা গাজীরা জোরপূর্বক ওই ভূমির মাটির কাজ করে। এতে করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও থানা পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাজ চালিয়ে যায়। মুসা গাজী ঢাকা থাকেন, তার সাথে বিভিন্নভাবে মোবাইলে চেষ্টা করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সোমবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২নং বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিলন বলেন, আমি হানিফ গাজী এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গ্রাম্য আদালতের সময় আগামী বুধবার নির্ধারণ করে গ্রাম পুলিশ দিয়ে নোটিশ পাঠিয়েছি। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বলেন, হানিফ গাজী এই ভূমির খারিজ না দেওয়ার বিষয়টি আবেদন করেছেন। হাজীগঞ্জ থানার এসআই নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি বিষয়টি মীমাংসার জন্য চেষ্টা করেছি। তবে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি।