ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মতলব নারায়ণপুরে সড়ক ও জনপদের রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব: বাবুরহাট-গৌরিপুর পেন্নাই সড়কের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাস্তা দখল করে একের পর এক বহুতলা ভবনসহ পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন কতিপয় প্রভাবশালীরা। মতলব-গৌরিপুর পেন্নাই সড়কের পাশ ঘেষে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েক শতাধিক স্থাপনা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যেই নারায়ণপুর এলাকায় রাস্তা দখল করে বহুতলা ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন সমাজ।

Model Hospital

জানা যায়, ইতিপূর্বে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পেশিশক্তির বলে এবং রাজনৈতিক শক্তির অপব্যবহার করে সড়কের পাশ ঘেষে এবং সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছে নানা ধরনের দোকানপাট ও বহুতলা ভবন। ফলে রাস্তা সরু হয়ে যান চলাচলে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত রাস্তা না হওয়ায় এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তাদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। তাই যে যার মতো করে অবৈধভাবে দখল করে নিচ্ছে সরকারি জায়গা। দখলের কারণে রাস্তাটি সরু হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা।

জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধিগ্রহণকৃত রাস্তা না হলেও নিয়ম অনুযায়ী বিএস নকশা মেনে কাজ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছে মতো নারায়ণপুর বাজার এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণ করছেন মজিবুর রহমান নামের এক ভবন মালিক। নিয়ম না মানায় এবং রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজার এলাকায় (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রিপন মীরের বাড়ির সামনে) রাস্তা দখল করে উপজেলার খর্গপুর গ্রামের পল্লী বিদ্যুাৎ কর্মকর্তা মজিবুর রহমান নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ভবন নির্মাণ করছেন। রাস্তা থেকে ভবনটির ফাউন্ডেশন পিলার ৩ ফুট দূরে হলেও উপরের অংশে ছাদে গিয়ে রাস্তা দখল করেই নির্মাণ করছেন ভবনটি। ভবনটি নির্মাণ হলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দুর্ঘটার আশংকা করছে স্থানীয় বাসিন্দাসহ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাত্রী সাধারণরা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মজিবুর রহমানসহ যারা সরকারি জায়গায় পাকা ভবন তৈরি করছেন। তাদের এই ভবন নির্মাণের ফলে রাস্তাটি সরু হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এই রাস্তাটি দিয়ে পথচারিরা হাটাচলা করতে পারছে না। রাস্তাটি সরু হয়ে যাওয়ায় এবং যানবাহন বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংক নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাটতে হয় তাদের।

এ ব্যাপারে ভবনের মালিক পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন ,বিএস নকশা অনুযায়ী কাজ করছি। আমি রাস্তায় আরও জায়গা পাই। ভবন নির্মাণে অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) এবং ইউপি চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে কাজ করছি।

এবিষয়ে খাদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন হাওলাদার বলেন, নিয়ম মেনে এবং রাস্তা ছেড়ে মালিকানা জায়গায় কাজ করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ নিয়ম না মানে তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সেটু কুমার বড়য়া ছুটিতে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেনু দাস বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

এদিকে সরকারি রাস্তা দখল করে ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণ করায় সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলছে না সাধারণ জনগণ। প্রভাবশালীদের দখল থেকে সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

ট্যাগস :

বিশাল মিছিল নিয়ে রাজপথে বুয়েট শিক্ষার্থীরা

মতলব নারায়ণপুরে সড়ক ও জনপদের রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ

আপডেট সময় : ০৪:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব: বাবুরহাট-গৌরিপুর পেন্নাই সড়কের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাস্তা দখল করে একের পর এক বহুতলা ভবনসহ পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন কতিপয় প্রভাবশালীরা। মতলব-গৌরিপুর পেন্নাই সড়কের পাশ ঘেষে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েক শতাধিক স্থাপনা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যেই নারায়ণপুর এলাকায় রাস্তা দখল করে বহুতলা ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন সমাজ।

Model Hospital

জানা যায়, ইতিপূর্বে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পেশিশক্তির বলে এবং রাজনৈতিক শক্তির অপব্যবহার করে সড়কের পাশ ঘেষে এবং সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে তুলেছে নানা ধরনের দোকানপাট ও বহুতলা ভবন। ফলে রাস্তা সরু হয়ে যান চলাচলে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধিগ্রহণকৃত রাস্তা না হওয়ায় এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তাদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। তাই যে যার মতো করে অবৈধভাবে দখল করে নিচ্ছে সরকারি জায়গা। দখলের কারণে রাস্তাটি সরু হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা।

জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধিগ্রহণকৃত রাস্তা না হলেও নিয়ম অনুযায়ী বিএস নকশা মেনে কাজ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছে মতো নারায়ণপুর বাজার এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণ করছেন মজিবুর রহমান নামের এক ভবন মালিক। নিয়ম না মানায় এবং রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণ করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজার এলাকায় (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রিপন মীরের বাড়ির সামনে) রাস্তা দখল করে উপজেলার খর্গপুর গ্রামের পল্লী বিদ্যুাৎ কর্মকর্তা মজিবুর রহমান নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ভবন নির্মাণ করছেন। রাস্তা থেকে ভবনটির ফাউন্ডেশন পিলার ৩ ফুট দূরে হলেও উপরের অংশে ছাদে গিয়ে রাস্তা দখল করেই নির্মাণ করছেন ভবনটি। ভবনটি নির্মাণ হলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দুর্ঘটার আশংকা করছে স্থানীয় বাসিন্দাসহ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাত্রী সাধারণরা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মজিবুর রহমানসহ যারা সরকারি জায়গায় পাকা ভবন তৈরি করছেন। তাদের এই ভবন নির্মাণের ফলে রাস্তাটি সরু হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এই রাস্তাটি দিয়ে পথচারিরা হাটাচলা করতে পারছে না। রাস্তাটি সরু হয়ে যাওয়ায় এবং যানবাহন বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংক নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাটতে হয় তাদের।

এ ব্যাপারে ভবনের মালিক পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন ,বিএস নকশা অনুযায়ী কাজ করছি। আমি রাস্তায় আরও জায়গা পাই। ভবন নির্মাণে অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) এবং ইউপি চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে কাজ করছি।

এবিষয়ে খাদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন হাওলাদার বলেন, নিয়ম মেনে এবং রাস্তা ছেড়ে মালিকানা জায়গায় কাজ করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ নিয়ম না মানে তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবস্থা নিবেন।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সেটু কুমার বড়য়া ছুটিতে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেনু দাস বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

এদিকে সরকারি রাস্তা দখল করে ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণ করায় সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলছে না সাধারণ জনগণ। প্রভাবশালীদের দখল থেকে সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।