ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ডাঃ সাজেদা পলিনকে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা

স্টাফ রিপোর্টার: ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন নড়াইল জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেছে চাঁদপুর প্রেসক্লাব। কৈশোরবান্ধব সদর উপজেলা নামে ইনোভেশন কর্মকাণ্ড এবং করোনাকালে চাঁদপুরবাসীর সেবা প্রদানে অনন্য ভূমিকা রাখায় কৃতজ্ঞতা স্বরূপ চাঁদপুর প্রেসক্লাব তাঁকে এ সংবর্ধনা দেয়।

Model Hospital

২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ৩য় তলায় সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুরের মাটিটা মনে হয় অনেক উর্বর। এই জেলায় অনেক গুণীজনেরর জন্ম এবং তাঁরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। এখানে যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা এসে ভালোভাবে কাজ করলে তিনি এ জেলা থেকে পদোন্নতি নিয়ে যান। আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্যে ফেসবুক ফেইজগুলোতে কাজ করেছি। সাধারণ মানুষের অনেক সাড়া পেয়েছি।

তিনি বলেন, আমি সবসময় চাঁদপুরের সাংবাদিকদের সহযোগিতা পেয়েছি। কর্মক্ষেত্রে যে ভুল হয় নি তা নয়। চাঁদপুরের সাংবাদিকরা সবসময় আমাকে বোনের মতো আগলে রেখেছেন। চাঁদপুর প্রেসক্লাব একটি স্মার্ট প্রেসক্লাব। যারা কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে চায় তাদেরকে সাংবাদিকরা সুযোগ করে দেয়। চাঁদপুরে না আসলে এই সুযোগটা হয়তো পেতাম না। নতুন কর্মস্থলের জন্যে সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এএইচএম আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান শোভনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের লেকচারার ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, রিয়াদ ফেরদৌস, দৈনিক ইলশেপাড় পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, চ্যানেল আইয়ের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি মোরশেদ আলম, এখন টিভির জেলা প্রতিনিধি তালহা জোবায়ের, এনটিভির চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে প্রথম আলো চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাহিত্য প্রকাশনা ও লাইব্রেরী সম্পাদক হাসান মাহমুদ, কার্যকরি সদস্য মিজান লিটনসহ অন্যান্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ডাঃ রুবেল ও ডাঃ পলিন দম্পতি করোনকালে চাঁদপুরের মানুষের জন্যে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। করোনাকালীন সময় ডাঃ রুবেল ও ডাঃ পলিন সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্যে ট্রেনিং দিয়েছেন। এই দম্পতিকে করোনাকালীন সময় সবচেয়ে বেশি তথ্যের জন্যে বিরক্ত করেছেন সাংবাদিকরা। আপনাদের অবদান চাঁদপুরবাসী কখনও ভুলবে না। নতুন কর্মস্থলের সফলতা কামনা করেন সাংবাদিকরা।
আলোচনা পর্ব শেষে ডাঃ সাজেদা বেগম পলিনকে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন এর আগে চাঁদপুর সদর উপজেলা এবং কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছিলেন। বিশেষ করে করোনাকালে চাঁদপুর সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাবস্থায় তাঁর নিরলস পরিশ্রম ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সে সময়ে করোনার উপসর্গে আক্রান্ত লোকজনের নমুনা সংগ্রহ, রোগী সনাক্ত, চিকিৎসা সেবা, মৃতদের দাফন, হোম আইসোলেশন ও লকডাউন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

তাঁর স্বামী ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেলও করোনাকালে নিরলস পরিশ্রম করে রোগীদের সেবা দিয়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন। এই দম্পতিকে নিয়ে করোনাকালে দেশের শীর্ষস্থানীয় সকল গণমাধ্যমে বিশেষ বিশেষ সংবাদ, সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিলো। ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল তখন সদর হাসপাতালের আরএমও ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের লেকচারার হিসেবে যোগদান করেছেন।

ট্যাগস :

ডাঃ সাজেদা পলিনকে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা

আপডেট সময় : ০৩:৫০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার: ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন নড়াইল জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেছে চাঁদপুর প্রেসক্লাব। কৈশোরবান্ধব সদর উপজেলা নামে ইনোভেশন কর্মকাণ্ড এবং করোনাকালে চাঁদপুরবাসীর সেবা প্রদানে অনন্য ভূমিকা রাখায় কৃতজ্ঞতা স্বরূপ চাঁদপুর প্রেসক্লাব তাঁকে এ সংবর্ধনা দেয়।

Model Hospital

২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ৩য় তলায় সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুরের মাটিটা মনে হয় অনেক উর্বর। এই জেলায় অনেক গুণীজনেরর জন্ম এবং তাঁরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। এখানে যে কোনো সরকারি কর্মকর্তা এসে ভালোভাবে কাজ করলে তিনি এ জেলা থেকে পদোন্নতি নিয়ে যান। আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্যে ফেসবুক ফেইজগুলোতে কাজ করেছি। সাধারণ মানুষের অনেক সাড়া পেয়েছি।

তিনি বলেন, আমি সবসময় চাঁদপুরের সাংবাদিকদের সহযোগিতা পেয়েছি। কর্মক্ষেত্রে যে ভুল হয় নি তা নয়। চাঁদপুরের সাংবাদিকরা সবসময় আমাকে বোনের মতো আগলে রেখেছেন। চাঁদপুর প্রেসক্লাব একটি স্মার্ট প্রেসক্লাব। যারা কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে চায় তাদেরকে সাংবাদিকরা সুযোগ করে দেয়। চাঁদপুরে না আসলে এই সুযোগটা হয়তো পেতাম না। নতুন কর্মস্থলের জন্যে সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এএইচএম আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান শোভনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের লেকচারার ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, রিয়াদ ফেরদৌস, দৈনিক ইলশেপাড় পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, চ্যানেল আইয়ের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি মোরশেদ আলম, এখন টিভির জেলা প্রতিনিধি তালহা জোবায়ের, এনটিভির চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে প্রথম আলো চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাহিত্য প্রকাশনা ও লাইব্রেরী সম্পাদক হাসান মাহমুদ, কার্যকরি সদস্য মিজান লিটনসহ অন্যান্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ডাঃ রুবেল ও ডাঃ পলিন দম্পতি করোনকালে চাঁদপুরের মানুষের জন্যে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। করোনাকালীন সময় ডাঃ রুবেল ও ডাঃ পলিন সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্যে ট্রেনিং দিয়েছেন। এই দম্পতিকে করোনাকালীন সময় সবচেয়ে বেশি তথ্যের জন্যে বিরক্ত করেছেন সাংবাদিকরা। আপনাদের অবদান চাঁদপুরবাসী কখনও ভুলবে না। নতুন কর্মস্থলের সফলতা কামনা করেন সাংবাদিকরা।
আলোচনা পর্ব শেষে ডাঃ সাজেদা বেগম পলিনকে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন এর আগে চাঁদপুর সদর উপজেলা এবং কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছিলেন। বিশেষ করে করোনাকালে চাঁদপুর সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাবস্থায় তাঁর নিরলস পরিশ্রম ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সে সময়ে করোনার উপসর্গে আক্রান্ত লোকজনের নমুনা সংগ্রহ, রোগী সনাক্ত, চিকিৎসা সেবা, মৃতদের দাফন, হোম আইসোলেশন ও লকডাউন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

তাঁর স্বামী ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেলও করোনাকালে নিরলস পরিশ্রম করে রোগীদের সেবা দিয়ে প্রশংসিত হয়েছিলেন। এই দম্পতিকে নিয়ে করোনাকালে দেশের শীর্ষস্থানীয় সকল গণমাধ্যমে বিশেষ বিশেষ সংবাদ, সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিলো। ডাঃ সুজাউদ্দৌলা রুবেল তখন সদর হাসপাতালের আরএমও ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের লেকচারার হিসেবে যোগদান করেছেন।