ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

করোনা ও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় সংযোগ সড়কের অভাবে অচল ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ সেতু

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলাসহ চার উপজেলার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় ডাকাতিয়া নদীর উপর স্থাপন করা হয়েছে ভাষা বীর এম এ ওয়াদুদ সংযোগ সেতু।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া থেকে দক্ষিণ আলগী এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুরের চররনবলিয়া গ্রাম এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭৪.২০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় নির্মাণের নির্ধারিত সময়ে চালু হয়নি এ সেতুটি। এতে নদীর দুই পাড়ের মানুষের কষ্টের শেষ নেই।
২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী চাঁদপুর সদরের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি ও ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া এ সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৯ সালে। এর পরের তিন বছর ধরে একই অবস্থায় পড়ে আছে সেতুটি। ভোগান্তি আগের মতোই পোহাতে হচ্ছে দুই পাড়ের মানুষগুলো। ডাকাতিয়া নদীতে নির্মিত এ সেতুটি চাঁদপুর সদর উপজেলা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে সংযোগ সৃষ্টি করবে। এটি চালু হলে প্রথমত দুই উপজেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। উভয় উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এখন সেতুটি চালুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এক সময় স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীরা দূর-দুরান্ত থেকে পাঁয়ে হেঁটে এ স্থান দিয়ে নদী পার হয়ে চাঁদপুর কলেজে আসা-যাওয়া করতো এবং বিভিন্ন চাকুরিজীবীরা এসে ট্রেনে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করত। কালক্রমে এর নাম বগারগুদারা হয়ে যায়। বর্তমান সময়ে এই সেতুটি চালুর অভাবে দুই পাড়ের মানুষগুলো আছেন বিপাকে। মুমূর্ষু কিংবা অসুস্থ রোগী নিয়ে একটি ভালো হাসপাতালে যেতে হলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয়।
ফায়ার সার্ভিস কিংবা তাৎক্ষণিক পুলিশি সেবা পেতেও দূর্ভোগ পোহাতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। সেতুটি চালু হলে নব রূপে প্রাণ ফিরে পাবে দুই উপজেলাসহ লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ ও নোয়াখালীর হাজারো মানুষ। সেই সাথে যুগের পর যুগ ধরে চলাচল করে আসা মানুষগুলো আর সময়ের পর সময় নৌকার জন্য বসে থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট করতে হবে না খেঁয়া ঘাটে।
দৃষ্টিনন্দন সেতুটি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, ভাষা আন্দোলনের বীর সেনানী ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ ওয়াদুদের নামে নামকরণ করায় স্থানীয়রা শিক্ষামন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তারা দ্রুত সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী বলেন, চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জের সড়কপথের দূরত্ব অনেকাংশ কমে আসবে। বিশেষ করে চাঁদপুর সদরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও ফরিদগঞ্জের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ অনেক উপকৃত হবে। দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে হলেও সেতুটি দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এতে দুই অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি পাবে। চাঁদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস বিশ্বাস বলেন, মূল সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে সক্ষম হয়েছি। এখন সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করব। মূলত করোনা ও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় ছাত্রীসহ প্রধান শিক্ষক আটক

করোনা ও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় সংযোগ সড়কের অভাবে অচল ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ সেতু

আপডেট সময় : ০২:৪২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৩
মাসুদ হোসেন : চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলাসহ চার উপজেলার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় ডাকাতিয়া নদীর উপর স্থাপন করা হয়েছে ভাষা বীর এম এ ওয়াদুদ সংযোগ সেতু।
চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া থেকে দক্ষিণ আলগী এবং ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুরের চররনবলিয়া গ্রাম এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭৪.২০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় নির্মাণের নির্ধারিত সময়ে চালু হয়নি এ সেতুটি। এতে নদীর দুই পাড়ের মানুষের কষ্টের শেষ নেই।
২০১৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী চাঁদপুর সদরের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি ও ফরিদগঞ্জের সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া এ সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৯ সালে। এর পরের তিন বছর ধরে একই অবস্থায় পড়ে আছে সেতুটি। ভোগান্তি আগের মতোই পোহাতে হচ্ছে দুই পাড়ের মানুষগুলো। ডাকাতিয়া নদীতে নির্মিত এ সেতুটি চাঁদপুর সদর উপজেলা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে সংযোগ সৃষ্টি করবে। এটি চালু হলে প্রথমত দুই উপজেলার যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। উভয় উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এখন সেতুটি চালুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এক সময় স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীরা দূর-দুরান্ত থেকে পাঁয়ে হেঁটে এ স্থান দিয়ে নদী পার হয়ে চাঁদপুর কলেজে আসা-যাওয়া করতো এবং বিভিন্ন চাকুরিজীবীরা এসে ট্রেনে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করত। কালক্রমে এর নাম বগারগুদারা হয়ে যায়। বর্তমান সময়ে এই সেতুটি চালুর অভাবে দুই পাড়ের মানুষগুলো আছেন বিপাকে। মুমূর্ষু কিংবা অসুস্থ রোগী নিয়ে একটি ভালো হাসপাতালে যেতে হলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয়।
ফায়ার সার্ভিস কিংবা তাৎক্ষণিক পুলিশি সেবা পেতেও দূর্ভোগ পোহাতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। সেতুটি চালু হলে নব রূপে প্রাণ ফিরে পাবে দুই উপজেলাসহ লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ ও নোয়াখালীর হাজারো মানুষ। সেই সাথে যুগের পর যুগ ধরে চলাচল করে আসা মানুষগুলো আর সময়ের পর সময় নৌকার জন্য বসে থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট করতে হবে না খেঁয়া ঘাটে।
দৃষ্টিনন্দন সেতুটি চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, ভাষা আন্দোলনের বীর সেনানী ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ ওয়াদুদের নামে নামকরণ করায় স্থানীয়রা শিক্ষামন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তারা দ্রুত সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী বলেন, চাঁদপুর সদর ও ফরিদগঞ্জের সড়কপথের দূরত্ব অনেকাংশ কমে আসবে। বিশেষ করে চাঁদপুর সদরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও ফরিদগঞ্জের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ অনেক উপকৃত হবে। দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে হলেও সেতুটি দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এতে দুই অঞ্চলের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি পাবে। চাঁদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস বিশ্বাস বলেন, মূল সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে সক্ষম হয়েছি। এখন সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করব। মূলত করোনা ও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।